আবার বড় সামরিক ঘোষণা ভারতের। এবং আবার বাড়তে চলেছে চিনের উদ্বেগ। ভিয়েতনামকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে ভারত। বুধবার ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র তরফে স্পষ্ট করে জানানো হল এ কথা।

ভিয়েতনামের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ অনেক দিন আগে থেকেই শুরু করেছে ভারত। তার পর সে দেশের নৌসেনাকে রণতরীও দেওয়া হয়েছে। সে সব নিয়ে চিন একাধিক বার উষ্মা প্রকাশ করেছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে চিন-ভারত সম্পর্ক সুস্থ থাকবে না এবং তার ফল ভাল হবে না, দিল্লিকে এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বেজিং। কিন্তু চিনা চোখরাঙানির পরোয়া না করে এ বার ভারত জানিয়ে দিল, ভারত-ভিয়েতনামের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

বুধবার ডিআরডিও চেয়ারম্যান এস ক্রিস্টোফার জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি অনেকগুলি দেশের সঙ্গেই আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র রফতানির বিষয়ে কথা বলছে। তিনি বলেছেন, ‘‘যে দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে, তাদের মধ্যে একটির নাম অবশ্যই ভিয়েতনাম।’’ তবে ঠিক ক’টা মিসাইল ব্যাটারি ভিয়েতনামকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ক্রিস্টোফার কিছু জানাননি।

ভিয়েতনামের সঙ্গে ভারতের সামরিক ঘনিষ্ঠতা একেবারেই পছন্দ নয় চিনের। আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দু’দেশের আলোচনা শুরু হওয়াকে তাই বেজিং মোটেই ভাল চোখে দেখবে না। —ফাইল চিত্র।

ভারতের নিজের তৈরি ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ‘আকাশ’ যে কোনও প্রতিপক্ষ দেশের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। আকাশসীমা প্রতিরক্ষার প্রশ্নে এই ক্ষেপণাস্ত্র একটি অত্যন্ত পারদর্শী হাতিয়ার বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। প্রতিপক্ষের বিমান বহর হানা দিলে, মাঝ আকাশেই তাকে ধ্বংসলীলার মুখ দেখাতে সক্ষম ভারতের আকাশ মিসাইল ব্যাটারি। শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষের থেকে ছুটে আসা মিসাইলকে মাঝ পথে রুখে দেওয়ার কাজেও আকাশকে ব্যবহার করা যায়। ফাইটার জেট থেকেও ছোড়া যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের অস্ত্রাগারে এই ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থাকা চিন বা পাকিস্তানের পক্ষে মোটেই স্বস্তির খবর নয়। সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বুঝিয়ে দিল, এ বার ভিয়েতনামের অস্ত্রাগারেও এই ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকতে চলেছে। দক্ষিণ চিন সাগরে জলসীমার দখল নিয়ে চিন-ভিয়েতনাম বিবাদের কথা গোটা বিশ্ব জানে। নিজেদের উত্তর সীমান্তে বেজিং-এর আগ্রাসন রুখতে স্থলভাগেও চিনের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে ভিয়েতনাম। সব জেনেও ভিয়েতনামকে ভারত আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করায় চিনের বিরক্তি এবং উদ্বেগ বাড়তে বাধ্য। বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: আগুন নিয়ে খেলছে ভারত: তাইওয়ান প্রশ্নে তীব্র হুঁশিয়ারি চিনের

এর আগে ভিয়েতনামকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়েও ভারত আলোচনা শুরু করেছিল। উদ্বিগ্ন চিন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ভারত অবশ্য সে হুঁশিয়ারিতে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। হ্যানয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক আরও বেড়েছে বই কমেনি। সম্প্রতি তাইওয়ানের সংসদীয় প্রতিনিধি দল ভারত সফর করেছে। তাতে চিন আরও চটেছে। তাইওয়ান তাস খেলা আর আগুন নিয়ে খেলা একই, এই ভাষাতে ভারতকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্রে। কিন্তু বেজিং-এর কোনও হুঁশিয়ারিকেই যে নয়াদিল্লি গুরুত্ব দিচ্ছে না, ভিয়েতনামকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলে ভারত ফের সে কথা বুঝিয়ে দিল।