নিজ-রাজ্য গুজরাতের উনা থেকে উত্তরপ্রদেশের সহারানপুর— দেশজুড়ে একের পর এক দলিত নিগ্রহের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে নরেন্দ্র মোদী। এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী বাছতে গিয়ে সুকৌশলে
দলিত তাস খেললেন তিনি। বিহারের রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দকে এনডিএ-র রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল বিজেপি।

সোমবার দুপুরে বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে মোদী-অমিত শাহ আলোচনা করেন রামনাথের নাম নিয়ে। দলের দাবি, গরিব কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা এই দলিত নেতা স্বয়ংসেবক হিসেবে সাদামাটা জীবনযাপন করেন। বিহারের রাজ্যপাল রামনাথ আদতে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা। ফলে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী করলে উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী, বিহারে নীতীশ কুমারদের পাশে পাওয়া যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সনিয়া গাঁধীরা যে ‘মোদী-বিরোধী’ মঞ্চ তৈরি করতে চাইছিলেন, গোড়াতেই তা ভেস্তে যাবে।

এবং সেই কৌশল আংশিক সফলও। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই রামনাথের সঙ্গে দেখা করে ইতিবাচক বার্তা দেন নীতীশ। মায়াবতীও বলেন, বিরোধীরা এর থেকে জনপ্রিয় দলিত প্রার্থী না দিলে রামনাথের ব্যাপারে তিনি ইতিবাচক। নবীন পট্টনায়কও রামনাথকে সমর্থন করেছেন। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সনিয়া নিজেই বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বসছেন। তার আগে বিরোধী শিবিরের ইঙ্গিত, রামনাথের মোকাবিলায় লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা দলিত নেত্রী মীরা কুমারকে দাঁড় করানো হবে। তাতে ঐকমত্য না হলে ভাবা হতে পারে অন্য কোনও নাম। লালু ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, কোনও আরএসএস-কর্মী রাষ্ট্রপতি হবেন, এটা মানা যায় না।

বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক শেষে ওখানে বসেই সনিয়া, মনমোহন সিংহ, নীতীশদের ফোন করেন খোদ মোদী। পরে গুলাম নবি আজাদ, সীতারাম ইয়েচুরিরা জানান, সরকারের প্রতিনিধি বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলার সময় কোনও নাম করেননি। এখন নাম ঘোষণা করা হল একতরফা! বোঝাই যাচ্ছে, ঐকমত্যের কথা আসলে ভাঁওতা।

রামনাথ কোবিন্দ

• বিহারের রাজ্যপাল। ২০১৫-র ৮ অগস্ট থেকে মনোনীত।

• ১ অক্টোবর, ১৯৪৫ কানপুরের দেহাত জেলায়, পরোখ গ্রামে জন্ম

• কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য ও আইনে স্নাতক

• তিন বারে আইএএস পরীক্ষায় পাশ করেন। চাকরি করেননি

• ১৯৯০-এ লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে হেরে যান

• ১৯৯৪ থেকে ২০০৬, দু’দফায় রাজ্যসভার সদস্য

• ১৯৯৮ থেকে ২০০২, বিজেপির তফসিলি মোর্চার সভাপতি

• স্ত্রী সবিতা কোবিন্দ। দু’টি সন্তান, ছেলে প্রশান্ত কুমার, মেয়ে স্বাতী

বিদেশ সফররত মমতা বলেন, ‘‘রামনাথ কোবিন্দের থেকে বড় দলিত নেতা আছেন। তা ছাড়া প্রণব মুখোপাধ্যায়, সুষমা স্বরাজ, লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো কাউকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী করলে ভাল হতো।’’

আরও পড়ুন:প্রচার ছাড়াই লড়ে যেতেন কট্টর কোবিন্দ

শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে রামনাথকে সমর্থন নিয়ে সরাসরি কোনও পথ নেননি। আগামিকাল, মঙ্গলবার এ নিয়ে তাঁর দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে অমিত শাহদের কাছে স্বস্তি, এনডিএর বাইরে টিআরএস, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থন মিলেছে।

উত্তরপ্রদেশে এই রামনাথকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন রাজনাথ সিংহ। উচ্চবর্ণের কথা ভেবে তা করেননি অমিত শাহ। বিজেপি নেতারা বলছেন, দলিতের পাশাপাশি গরিব ও কৃষক অস্ত্রেও শান দিতে চাইছেন মোদী। ‘দলিত-বিরোধী’র পাশাপাশি ‘কৃষক ও গরিব-বিরোধী’ তকমাও লেগেছে মোদীর গায়ে। তাই মোদী টুইট করেছেন, ‘‘রামনাথ সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে। গরিব ও প্রান্তিকদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’’ রাতে মোদী-অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের আগে রামনাথ বলেন, ‘‘এটি গৌরব নয়, কর্তব্য।’’