মহারাষ্ট্রের দলিত বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছে গেল সংসদে। লোকসভা এবং রাজ্যসভা, দুই কক্ষেই প্রবল হট্টগোল শুরু হল বুধবার সকাল থেকে। শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তীব্র বাদানুবাদে জড়াল লোকসভায়। তার চেয়েও বেশি হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গেল রাজ্যসভা।

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে এ দিন তীব্র আক্রমণ করেন সরকারকে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমালোচনায় সরব হন তিনি। খাড়্গে বলেন, ‘‘দেশে দলিত-বিরোধী হিংসার ঘটনা বাড়ছে’’ এবং সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতায় আশ্চর্য হতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে খাড়্গে বলেন, ‘‘তিনি নীরব থাকতে পারেন না। এই ধরনের ইস্যুতে তিনি মৌনিবাবার ভূমিকা পালন করছেন।’’

কংগ্রেসের আক্রমণের জবাব দিতে আসরে নামেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অনন্ত কুমার। কংগ্রেস দেশে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনন্ত কুমার বলেন, ‘‘মহারাষ্ট্রে শান্তির জন্য প্রার্থনা করার বদলে কংগ্রেস ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি প্রয়োগ করছে। আগে ব্রিটিশরা এই নীতি প্রয়োগ করত, এখন কংগ্রেস করছে।’’

প্রধানমন্ত্রী মোদী এ দিন লোকসভায় ছিলেন না। বিরোধীরা বার বার মোদীর উপস্থিতি দাবি করতে থাকেন। মহারাষ্ট্রের ঘটনা এবং এবং দলিত নির্যাতনের একের পর এক ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিবৃতি দিতে হবে বলে তাঁরা দাবি করতে থাকেন। ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে আসতে বলুন’’, অনন্ত কুমারকে বার বার বলতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা।

কংগ্রেসকে জবাব দিতে আক্রমণাত্মক অনন্ত কুমার। ছবি: পিটিআই।

রাজ্যসভায় বিরোধীদের উপস্থিতি লোকসভার তুলনায় বেশি। ফলে সেখানে হট্টগোল আরও বেশি হয়। দু’বার মুলতুবি করে দিতে হয়ে রাজ্যসভা।

আরও পড়ুন: রান্নার চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে জয়পুর সাহিত্য উৎসবে বক্তা মনোরঞ্জন ব্যাপারী

মহারাষ্ট্রের কোরেগাঁওতে গত ১ জানুয়ারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল গোষ্ঠী সংঘর্ষ। কোরেগাঁও যুদ্ধের দ্বিশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের আয়োজন করেছিলেন দলিতরা। ১৮১৮ সালের ওই যুদ্ধে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে মরাঠা শাসক পেশোয়া-র বাহিনী পরাস্ত হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশদের হয়ে যে হেতু লড়েছিলেন মহার দলিতরা, সে হেতু ওই যুদ্ধকে ‘উচ্চবর্ণীয়’ মরাঠাদের বিরুদ্ধে দলিতদের জয় হিসেবে উদ্‌যাপন করেন অনেকে। দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বার উদ্‌যাপনের আয়োজন ছিল অন্যান্য বছরের চেয়ে বড়। কিন্তু, ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্রিটিশের জয়ের দ্বিশতবার্ষিকী কেন উদ্‌যাপিত হবে? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল কয়েকটি কট্টরবাদী মরাঠি সংগঠন। সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

আরও পড়ুন: তালাক বিলে ভোটাভুটির চাল কেন্দ্রের

১ জানুয়ারি দলিতদের উপর হামলার প্রতিবাদে ২ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। মুম্বই, পুণে, ঠাণে, ঔরঙ্গাবাদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ হিংসাত্মক চেহারা নেয়। দলিত সংগঠনগুলির ডাকে আজও গোটা মহারাষ্ট্রে বন্‌ধ পালিত হচ্ছে। সড়ক ও রেল পরিবহণ ব্যবস্থায় বন্‌ধের ভালই প্রভাব পড়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বাস ভাঙচুর হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের চেয়ে আজকের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।