শীতের রাতে লেপ-চাদরে মুড়ি দিয়ে নিশ্চিন্ত-ঘুমে তলিয়ে ছিল গোটা শহর। তার মধ্যেই আচমকা এক ব্যক্তি তাণ্ডব চালাল হাসপাতাল থেকে শহরের রাস্তায়। মাত্র দু’ঘণ্টার ব্যবধানে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করল ৬ জনকে। এখানেই শেষ নয়, গ্রেফতার করতে আসা পুলিশকর্মীর উপরেও চড়াও হয় ওই প্রাক্তন সেনাকর্মী।

আজ ভোরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাক্ষী হল হরিয়ানার পলবল টাউনশিপ। রাত ২টো থেকে ভোর চারটের মধ্যে আগরা চক থেকে ক্যাম্প কলোনি পর্যন্ত দু’কিলোমিটার এলাকায় এই হত্যালীলা চালিয়েছে বছর পঁয়তাল্লিশের নরেশ ধনকড়। মছগড় এলাকার বাসিন্দা নরেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরে কৃষি দফতরে সিডিও হিসেবে কাজ করছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, নরেশ লুঠ করার জন্য খুনগুলি করেনি। কারণ যাঁদের উপর সে হামলাগুলি চালিয়েছে, তাঁরা কেউ নিরাপত্তারক্ষী, কেউ ভিক্ষুক। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সে মানসিক ভারসাম্যহীন। তদন্তে নেমে এ-ও জানা গিয়েছে, পরিবারের সঙ্গেও নরেশের সম্পর্ক ভাল নয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঠিক কী হয়েছিল?

আরও পড়ুন: জয়শঙ্করকে নয়া দায়িত্বে আনার চিন্তা

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা গিয়েছে, নরেশের প্রথম শিকার হন অঞ্জুম নামে এক মহিলা। একটি বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে ঘুমিয়েছিলেন তিনি। রাত দু’টো নাগাদ তাঁর উপর চড়াও হয় নরেশ। অঞ্জুমকে পিটিয়ে খুন করে পালায় সে। এর পরে পলবলের আগরা রোড এবং মিনার গেটের মাঝে চার জনের উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায় সে। মৃত্যু হয় প্রত্যেকেরই।

ভোর চারটে নাগাদ নরেশ স্থানীয় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের এক নিরাপত্তারক্ষীর উপর চড়াও হয়। তাঁকে পলবলের রসুলপুর রোডের কাছে খুন করে নরেশ।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নরেশকে শনাক্ত করে পুলিশ। দিনের আলো ফুটতেই আদর্শনগর কলোনির কাছে নরেশকে গ্রেফতার করতে যায় পুলিশের একটি দল। সে এক পুলিশকর্মীর উপর চড়াও হয়। তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নরেশকে গ্রেফতার করে পলবলের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ফরিদাবাদের একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। ওই প্রাক্তন সেনাকর্মীর মানসিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।