ইজরায়েলের কাছ থেকে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল কেনার চুক্তি বাতিল করে দিল ভারত। ৫০ কোটি ডলারে মোট ১ হাজার ৬০০টি ‘স্পাইক’ মিসাইল কেনার কথা ছিল ইজরায়েলের কাছ থেকে। যে ইজরায়েলি সংস্থার কাছ থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি কেনার কথা ছিল, সেই ‘রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস’ বুধবার জানিয়েছে, চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে নয়াদিল্লি।

অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ‘স্পাইক’ যে কেনা হবে না, সে সিদ্ধান্ত ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেশ কিছু দিন আগেই নিয়েছিল। তবে চুক্তি বাতিল করার কথা রাফায়েল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে গত সপ্তাহে। এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে রাফায়েলের তরফে। তবে তার জন্য ভারতকে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করার পথ থেকে রাফায়েল সরে আসবে না বলেও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

স্পাইক হল হালকা ওজনের এবং ছোট আকারের ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট মিসাইল। হাতে করে এই ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায় এবং একজন সৈনিক একাই এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারেন। ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ির মতো চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে স্পাইক।

আরও পড়ুন: রাতারাতি বন্ধ অনুদান, প্রবল চাপে পাকিস্তান, তলব মার্কিন দূতকে

আরও পড়ুন: বিক্ষোভ চলছেই, ইরানে হত আরও ৯

এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে ইজরায়েলি সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল ভারতের। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য হায়দরাবাদে প্রোডাকশন ইউনিটও তৈরি করে ফেলেছিল রাফায়েল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানা গেল, হায়দরাবাদের ওই পরিকাঠামোতে স্পাইক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হবে না। হায়দরাবাদের কারখানাটি অবশ্য ভেঙে ফেলা হবে না। স্পাইক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া অন্য যে সব সামরিক সরঞ্জাম রাফায়েলের কাছ থেকে কিনবে ভারত, সে সব তৈরির পরিকাঠামোও বানানো হয়েছে হায়দরাবাদের প্রোডাকশন ইউনিটটিতে। তাই ওই কারখানায় অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হবে।

কিন্তু কেন বাতিল হল স্পাইক চুক্তি? প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল বিদেশ থেকে আমদানি করতে চাইছে না সরকার। ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, চার বছরের মধ্যে বিশ্বমানের অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ভারতীয় বিজ্ঞানীরাই তৈরি করে দেবেন। ভারত সরকার তাই আপাতত ডিআরডিও-র অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল প্রকল্পেই বিনিয়োগ করতে চাইছে বলে খবর।