রাজ্যসভা থেকে শরদ যাদবের ইস্তফা চাইতে মুকুল রায়কে ‘অস্ত্র’ করল নীতীশ কুমার শিবির।

মুকুলবাবুর দৃষ্টান্ত তুলে ধরে জেডিইউয়ের প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্যসভা সাংসদ শরদের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে দলে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কাইয়া নায়ডুর কাছে ইতিমধ্যেই শরদের অপসারণ দাবি করে চিঠি দিয়েছে জেডিইউ।

দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার আজ বলেন, ‘‘রাজনীতিতে উদাহরণ গড়েছেন মুকুলবাবু। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। তা হলে শরদ যাদব কেন ইস্তফা দেবেন না?’’

শরদের বিরুদ্ধে নীরজের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একের পর এক দাবিপত্র দাখিল করে নিজের আসন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে আরজেডি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে মহাজোট ভেঙে দেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র হাত ধরে ফের সরকার গঠন করেন। নীতীশের আচরণে ক্ষুব্ধ হন প্রাক্তন সভাপতি শরদ। দলের সাংসদ আলি আনোয়ার এবং বীরেন্দ্র কুমারকে সঙ্গে নিয়ে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেন জেডিইউয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতীকের দাবিও জানান শরদ। গত ২৭ অগস্ট দলীয় নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে লালুপ্রসাদের সভায় হাজির হন তিনি। এর পরেই তাঁকে রাজ্যসভা থেকে অপসারণের দাবি ওঠে জেডিইউয়ের অন্দরমহলে।

তবে শরদকে নিয়ে কিছুটা হলেও সুর নরম দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি ত্যাগীর। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘মুকুলবাবুর সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। তিনি রাজনৈতিক আদর্শ মেনে কাজ করছেন। সকলের সেই পথে চলা উচিত। শরদ যাদবের বিষয়টি তাঁর অন্তরাত্মার উপরেই ছাড়ছি।’’

গত বছর জুলাই মাসে রাজ্যসভা সাংসদ হয়েছিলেন শরদ যাদব। ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর সেই পদে থাকার সময়সীমা। জেডিইউ মুখপাত্র বা সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নিয়ে এ দিন কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি শরদ। তিনি শুধু বলেছেন, ‘‘আমি কখনও কারও মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কথা বলিনি।’’

তবে পাল্টা মুকুলবাবুকে আক্রমণও করেছেন শরদ। তিনি বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জনকে সাংসদ করেছেন, মন্ত্রী করেছেন। তিনি কি না এখন নতুন কেরিয়ারের খোঁজ করছেন।’’ শরদের দাবি, মুকুলবাবু বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন। সাংসদ পদ ছেড়েছেন নতুন কোনও কুর্সির আশাতেই।