দলিতদের অসবর্ণ বিয়ে হলেই মিলবে আড়াই লক্ষ টাকা। চালু থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কিছুটা রদবদল এনে আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

বাবাসাহেব অম্বেডকরের নামে বর্তমানে চালু থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্প অনুযায়ী, কোনও দলিত মেয়ে কিংবা ছেলে যদি অন্য সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েকে বিয়ে করে, সে ক্ষেত্রে সরকারের থেকে তাঁরা এককালীন আড়াই লক্ষ টাকা সাহায্য পেতে পারেন। তবে দম্পতির বাৎসরিক আয় ৫ লক্ষ টাকার কম হলেই এই সুবিধা মিলত।

দলিতদের অসবর্ণ বিবাহে উৎসাহ দিতেই এই প্রকল্প চালু হয়েছিল। ভাবা হয়েছি, বছরে অন্তত পাঁচশো দম্পতিকে এই সুবিধা দেওয়ার যাবে। কিন্তু অসবর্ণ বিবাহের এই প্রকল্প একেবারেই জনপ্রিয় হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই চালু প্রকল্পে বদল নিয়ে এল কেন্দ্র। তবে পাত্র-পাত্রীর কোনও একজনকে দলিত হতে হবে। দেখা গিয়েছে, ভারতে এই ধরনের অসবর্ণ বিয়ের সংখ্যা অনেক কম, মাত্র ১১ শতাংশ। তাই প্রকল্পকে জনপ্রিয় করে তুলতেই আজকের পদক্ষেপ।

মোদী সরকারের সামাজিক ন্যায় মন্ত্রক এ দিন এই প্রকল্পে দু’টি বদল এনেছে। এক, বাৎসরিক আয়ের পাঁচ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আয় যা-ই হোক না কেন, দলিত পুরুষ বা মহিলাকে বিয়ে করলে ওই দম্পতি পেতে পারবেন এককালীন আড়াই লক্ষ টাকা। দুই, বর্তমান প্রকল্পে প্রথম বারের বিয়ের ক্ষেত্রেই আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেত। হিন্দু বিবাহ আইনে তা নথিভুক্ত করার শর্ত রাখা ছিল। কিন্তু এই নিয়মও শিথিল করা হয়েছে। তবে এ বার এই প্রকল্পে নয়া কিছু শর্তও চাপানো হয়েছে। তা হল, সুবিধাপ্রাপকদের আধার নম্বর জানাতে হবে। আধার-যোগ সহ দম্পতির যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও লাগবে।

দেশে দলিতদের উপর অত্যাচারের ঘটনা লাফিয়ে বাড়ছে। জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে তার আগের বছরের তুলনায় দেশে দলিত নিগ্রহের ঘটনা সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। গো রক্ষকদের নাম করে ও অন্য ছুতোয় দলিতদের উপর নানা ধরনের অত্যাচার চলায় প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলি। দলিতদের উপর অত্যাচার আটকাতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ভূমিকা যখন প্রশ্নের মুখে, তখনই দলিতদের অসবর্ণ বিয়েকে উৎসাহ দিতে পদক্ষেপ করল কেন্দ্র।