বিজেপি রাষ্ট্রপতি প্রদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করতেই সম্পূর্ণ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া গোটা বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম— বিরোধিতায় সরব সব পক্ষই। ‘‘দেশে আরও অনেক বড় বড় দলিত নেতা ছিলেন, রামনাথ কোবিন্দকে চিনতামই না,’’ মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আরএসএস করে আসা কোনও রাজনীতিক দেশের রাষ্ট্রপতি পদের যোগ্য নন, মত সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির। বিরোধী শিবিরে অবধারিত ভাবেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রার্থী বাছাইয়ের ইঙ্গিত। ২২ জুন বৈঠকে বসছে বিরোধী দলগুলি। এনডিএ-র অন্দরেও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত। শিবসেনার অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

মূলত দু’টি কারণে কোবিন্দকে নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের— তাঁর আরএসএস ঘনিষ্ঠতা এবং বিরোধীদেরকে আগে থেকে না জানিয়ে তাঁর নাম ঘোষিত হওয়া। বিজেপির তরফ থেকে রাজনাথ সিংহ এবং বেঙ্কাইয়া নায়ডু বিরোধী শিবিরের বড় দলগুলির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছিলেন ঠিকই। কিন্তু কাকে বিজেপি প্রার্থী করতে চায়, সে বিষয়ে বিরোধীদের তাঁরা কোনও ইঙ্গিত দেননি। সোমবার বিজেপি সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে রামনাথ কোবিন্দের নামে সিলমোহর পড়ার পরেই তা বিরোধীদের জানানো হয়। এই পদ্ধতিকে বিরোধী দলগুলি অনুমোদন করছে না। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা কংগ্রেসের দলিত নেত্রী মীরা কুমারকে বিরোধী দলগুলি প্রার্থী করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ এ দিন জানান, বিজেপি একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে বিরোধী দলগুলিকে তা জানিয়েছে। সর্বসম্মত ভাবে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বেছে নেওয়ার কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। আজাদ অবশ্য এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি সোমবার বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে অন্য সব বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে যে হেতু কংগ্রেস সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সে হেতু কংগ্রেস এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করবে না। ২২ জুন বিরোধী দলগুলির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’’

কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ অধিকাংশ বিরোধী দলই রামনাথ কোবিন্দের নামে আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের তাগিদে ২২ জুনের বৈঠকের আগে এর চেয়ে বেশি মুখ খুলতে চাইছে না কোনও দলই। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়াও বিজেপির পক্ষে সুখকর নয়। রামনাথ কোবিন্দকে রাষ্ট্রপতি পদে সমর্থন করার অনুরোধ জানিয়ে বিজেপির অরুণ জেটলি এবং তেলুগু দেশমের চন্দ্রবাবু নায়ডু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু তৃণমূলনেত্রীর মন যে গলেনি, তা তাঁর মন্তব্যেই স্পষ্ট। ইউরোপ সফরে যাওয়ার পথে দুবাই বিমানবন্দরে এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি দলিত তাস খেলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উতরে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁর মত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘রামনাথ কোবিন্দকে চিনতামই না। নাম ঘোষণা হওয়ার পর জানলাম, তিনি বিহারের রাজ্যপাল। দেশে আরও অনেক বড় বড় দলিত নেতা রয়েছেন। রামনাথ কোবিন্দ বিজেপির দলিত সংগঠনের নেতা ছিলেন বলেই রাষ্ট্রপতি পদে তাঁকে মেনে নিতে হবে, এটা হয় না।’’

আরও পড়ুন: এনডিএ-র রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী দলিত নেতা রামনাথ কোবিন্দ

রামনাথকে তৃণমূল কিছুতেই সমর্থন করবে না, এমন ঘোষণা অবশ্য মমতা এ দিন করেননি। তাঁর কথায়, ‘‘২২ তারিখ দিল্লিতে আমাদের বৈঠক রয়েছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

সিপিএমের প্রতিক্রিয়া অবশ্য অনেক খোলাখুলি। রামনাথ কোবিন্দকে যে সিপিএম সমর্থন করবে না, সে ইঙ্গিত দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এ দিন বেশ স্পষ্ট করেই দিয়ে দিয়েছেন। ‘‘রামনাথ কোবিন্দ এক জন আরএসএস নেতা, অর্থাৎ তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শনের মানুষ। তাই এটা আমাদের কাছে একটা রাজনৈতিক লড়াই,’’ মন্তব্য ইয়েচুরির। আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনও ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে সর্বসম্মত ভাবে মেনে নেওয়া হবে না, ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি এমন ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন ইয়েচুরি। শরদ পওয়ারের দল এনসিপি রামনাথ কোবিন্দকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ২২ জুন বিরোধী দলগুলির বৈঠকের পরেই এ বিষয়ে মন্তব্য করা হবে, জানানো হয়েছে এনসিপির তরফে।

মায়াবতীর বিএসপি অবশ্য কোবিন্দের নামে কোনও আপত্তি করেনি। বিরোধীরা যদি কোনও জনপ্রিয় দলিত মুখকে তুলে ধরতে না পারে, তা হলে বিএসপি কোবিন্দকেই সমর্থন করবে বলে মায়াবতী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। জেডিইউ প্রধান তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার কিন্তু এ দিন কোবিন্দের প্রশংসাই করেছেন। বিজেপির প্রার্থীকে তাঁর দল সমর্থন করবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর নীতীশ এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কোবিন্দ প্রার্থী হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগত ভাবে খুশি বলে নীতীশ জানিয়েছেন।