এমনিতে ঝাড়ু খুব একটা প্রিয় নয় বিজেপি-র। তার উপর দিল্লিতে আম আদমি পার্টির কাছে হারের পর ঝাড়ু সম্পর্কে একটা অস্বস্তি রয়েছে তাদের। কিন্তু, এ বার সেই ঝাড়ুই হাতে তুলে নিতে হচ্ছে বিজেপি নেতাদের। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিনকে ‘সেবা দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে। এবং সরকারি ভাবেই। আগামী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সেবা দিবসের সূচনা করবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বিজেপি সূত্রে খবর, দলের একাধিক নেতামন্ত্রীকেই ঝাড়ু হাতে সাফাই অভিযানে দেখা যাবে ইন্ডিয়া গেট, জুহুর সৈকত-সহ মোট ১৭টি প্রর্যটন ক্ষেত্রে।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে রাজি রাহুল

রোহিঙ্গা প্রশ্নে ফের সঙ্কটে মোদী সরকার

ক্ষমতায় আসার পর মোদী সরকার জানিয়েছিল, ‘স্বচ্ছতা অভিযান’কে সফল করে মহাত্মা গাঁধীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হবে। কিন্তু, এ বার সেই স্বচ্ছতা অভিযানের সঙ্গে নিজের জন্মদিনকেই জুড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪-র ২ অক্টোবর। গাঁধীজির জন্মদিন উপলক্ষে একটি জাতীয় প্রকল্পের ঘোষণা করে মোদী সরকার। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৪ হাজার ৪১টি শহরের রাস্তা এবং পরিকাঠামোকে পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করা হয়। দিল্লির রাজঘাট সমাধিস্থলে সে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯-এ গাঁধীর দেড়শোতম জন্মবার্ষিকী। তার মধ্যেই ওই কাজ শেষ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়। সম্প্রতি সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদী। বিরোধীদের বক্তব্য, প্রকল্পটি এখনও বিশ বাঁও জলে। স্বচ্ছতার কোনও কাজই তেমন ভাবে এগোয়নি এ দেশে। বিরোধীদের কটাক্ষ, সেবা দিবস আসলে বিজেপি নেতাদের ফোটোশুটের একটা উপলক্ষ মাত্র।

মনীষীদের জন্মদিনকে বিভিন্ন দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এ রীতি গোটা দুনিয়া জুড়েই চালু আছে। সেই তালিকায় অনেক সময় রাজনীতিবিদদের নামও ঢুকে পড়ে। এ দেশও সে রীতির বাইরে নয়। বিবেকানন্দের জন্মদিন যেমন যুব দিবস হিসাবে পালিত হয়, জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন শিশু দিবস, বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন চিকিত্সক দিবস, সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণের জন্মদিন শিক্ষক দিবস— সেই তালিকায় এ বার মোদীও ঢুকে পড়তে চাইলেন।