মাথায় লাল পাগড়ি পরে রাজস্থান থেকে দলবল নিয়ে এসেছেন শিবলাল পূর্বিয়া। এআইসিসি দফতর থেকে বেরিয়ে হাসিমুখে বললেন, ‘‘সাফ জানিয়ে দিয়েছি রাহুল গাঁধীকে। টাকা নিয়ে দিল্লি থেকে প্রার্থী পাঠাবেন না। আমাদের ওখানে কি যোগ্য লোক কম?’’

সকাল দশটায় থিকথিকে ভিড় এআইসিসি দফতরে। সভাপতি হয়ে প্রথম বার জনতার দরবার করছেন রাহুল গাঁধী। এক সময়ে ইন্দিরা গাঁধী দলের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সংস্কৃতি শুরু করেছিলেন। সেটিই আবার ফিরিয়ে আনছেন রাহুল। দিল্লিতে থাকলে ফি-সপ্তাহেই বসবেন।

কংগ্রেস দফতরে সাজানো হয়েছে নতুন একটি ঘর। সেখানেই নানা রাজ্য থেকে আসা প্রতিনিধি আর নেতাদের সঙ্গে খোলা মনে দেখা করলেন রাহুল। সমস্যা শুনলেন। প্রতিশ্রুতিও দিলেন। অনেকেই বললেন, সভাপতির সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাওয়া কি কম?

কিন্তু রাহুল কী বললেন?

সাধারণ কর্মীদের সমস্যা শুনে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কয়েক জন নেতার সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। ঘনিষ্ঠদের রাহুল নাকি জানিয়েছেন, পরের ভোটে নরেন্দ্র মোদী আর প্রধানমন্ত্রী থাকছেন না। রাহুলের মতে, তাঁর দলের প্রবল সমালোচকরাও বলেন কংগ্রেস ৬০-৭০টি আসন বাড়াবে। যদিও কংগ্রেস তার থেকে অনেক বেশি পাবে। গুজরাত, রাজস্থান, হরিয়ানা, পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ে আসন বাড়বে কংগ্রেসের। আর সেই সমালোচকদেরই মতে, বিজেপি সরকার গড়লেও মোদী আর থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির আসন কমলেই শরিক নির্ভরতা বাড়বে। আর বিজেপির শরিকরাই নরেন্দ্র মোদীর বদলে রাজনাথ সিংহের মতো কাউকে প্রধানমন্ত্রী করতে চাইবেন।

তবে সমালোচকদের মূল্যায়ন উড়িয়ে রাহুল ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, সরকারে কংগ্রেসই আসবে। গুজরাতেও কেউ আগে ভাবেননি কংগ্রেস বিজেপিকে এমন টক্কর দেবে। গুজরাতের ফল কংগ্রেসের মনোবল চাঙ্গা করেছে। যে ভাবে বিজেপির জমি সরছে, তাতে ক্ষমতায় কংগ্রেসের আসা নিশ্চিত।