উত্তরপ্রদেশে ভোটের পর নরেন্দ্র মোদীর মুখ থেকে বেরিয়েছিল এক নতুন শব্দগুচ্ছ— ২০২২। স্বাধীনতার ৭৫ বছর। আর তাকে সামনে রেখেই মোদী লাগাতার এমন একটি ভাব দেখাচ্ছেন, ২০১৯ তাঁর হাতের মুঠোয়। আর যে কাজ তাঁর ২০১৯ সালের মধ্যে করার কথা, সেগুলিও সুকৌশলে পিছিয়ে ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করার কথা বলছেন। বিজেপির ছোট বড় মাঝারি নেতারা তো বটেই, বিদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েও ২০২২-এর কথা বলিয়ে নিয়েছেন মোদী। তবে এই প্রথম নরেন্দ্র মোদীর ২০২২-এর অস্ত্রকে কেউ এত তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করলেন। তিনি রাহুল গাঁধী।

রাহুল আজ বলেন, ২২ বছর সরকারে থেকেও গুজরাতে দারিদ্র দূর করতে পারেননি মোদী। তিনি আবার কেন মুখে ২০২২-এর কথা বলেন? রাহুল টুইট করে বলেন, ‘‘আমি এর (২০২২) পরের লাইনটা বলছি। ২০২৫ সালে পৌঁছে মোদী সবাইকে চাঁদে পাঠানোর রকেট দেবেন। ২০২৮-এ চাঁদে ঘর দেবেন। আর ২০৩০-এ চাঁদকেই পৃথিবীতে নিয়ে আসবেন!’’ মোদীর ২০২২-এর এই ‘ভাঁওতা’ কে নিয়ে এ বারে তেড়েফুড়ে প্রচারে নামছে কংগ্রেস। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘মোদী যেগুলি ২০১৯-এ পূরণ করতে পারবেন না, সেটা ২০২২-এও সম্ভব নয়। ২০১৯-এর ভোটে জিততে এই মিথ্যা স্লোগানকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন মোদী।’’

আরও পড়ুন: ফেসবুকে পোস্ট! ৪২ দিনের জেল

আচমকা ২০২২ নিয়ে এমন আক্রমণ ধেয়ে আসায় রীতিমতো থতমত বিজেপি। এই প্রচারের মোকাবিলা কী ভাবে হবে— তা নিয়ে আলোচনায় বসবে দল। এর আগে গত তিন দিন ধরে মোদীর রাজ্যে বসে থেকে বিভিন্ন সভায় গিয়ে ‘গুজরাত মডেল’-এর ফাঁকফোকরগুলি দেখিয়েছেন রাহুল। বলছেন, উন্নয়নের প্রশ্নে মোদীর ‘ভিশন’-ই ভুল। কংগ্রেস আমলেও অনেক গলদ ছিল, কিন্তু সেটা মোদীর জমানা থেকে ঢের ভাল। একশো দিনের কাজে সাধারণ মানুষের রোজগার বাড়ছিল, কিন্তু মোদীই প্রথম তা নিয়ে উপহাস করেন। তবে তিনি এখন আবার তাতেই ভর করছেন। সেখানেও অবশ্য খামতি থাকছে ভুরি ভুরি। কংগ্রেস সহ-সভাপতির লাগাতার এই আক্রমণের মুখে গত কালই অমিত শাহ, স্মৃতি ইরানিরা রাহুলের কেন্দ্র অমেঠীতে দাঁড়িয়ে তোপ দেগেছেন। আজ ছিল খোদ মোদীর পালা। উপলক্ষ নানাজি দেশমুখের জন্মশতবর্ষ ও সঙ্গে জয়প্রকাশ নারায়ণের জন্মবার্ষিকী পালন। দিল্লিতে সেই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী আজ রাহুলের তোপের পাল্টা জবাব হাজির করেছিলেন।

মোদী এ দিন বোঝান, উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ‘ভিশন’ স্পষ্ট। তিনি মূলত গ্রামেই ছড়িয়ে দিতে চান উন্নয়ন। শহরের সমান সুবিধা পৌঁছে দিতে চান সেখানেও। আর মোদীর মতে, একে রূপায়ণ করতে প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসনের। সেটি ঠিক হলেই সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছবে উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গেই মোদী টেনে এনেছিলেন একশো দিনের কাজের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘‘যে রাজ্যে গরিব বেশি, সেখানে এই প্রকল্প ভাল ভাবে রূপায়ণ হচ্ছে না। যেখানে গরিব কম, সেখানে হচ্ছে। কারণ, এই প্রকল্পের রূপায়ণও নির্ভর করে সুশাসনের উপর। জনতার অংশিদারিত্ব যত বাড়বে, ততই প্রকল্প রূপায়ণ হবে সঠিক ভাবে।’’ একশো দিনের কাজে সাফল্য নিয়ে বিশেষ কোনও রাজ্যের নাম করেননি মোদী। তবে সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আসলে বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে সুশাসনের ফলে গরিবি কম। তাই সেখানে এই প্রকল্প ঠিক ভাবে এগোচ্ছে। তবে প্রকল্পের গোটা কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ফের ২০২২ সালের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন মোদী। তার পরেই এল চরম কটাক্ষের টুইট।