প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে তিনি প্রস্তুত। জানিয়ে দিলেন রাহুল গাঁধী। কংগ্রেস সহ-সভাপতি এখন দু’সপ্তাহের আমেরিকা সফরে রয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কলেতে আজ ছাত্রদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানেই সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে রাহুল গাঁধী জানিয়েছেন, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দলের মুখ হতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তিনিই কংগ্রেসের তরফে সেই দায়িত্ব নেবেন, নাকি অন্য কেউ, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অসুস্থতার কারণে সনিয়া গাঁধী কংগ্রেসের শীর্ষপদ থেকে অনেক দিন ধরেই সরে যেতে চাইছেন বলে ১০ জনপথ সূত্রের খবর। ছেলে রাহুলের উপর দায়িত্ব সঁপে দিতে চান সনিয়া। কিন্তু সহ-সভাপতি থেকে সভাপতি হয়ে দলের দায়িত্ব একক ভাবে নিজের কাঁধে তুলে নিতে এখনও প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেও গুঞ্জন বিস্তর। কংগ্রেস সভাপতি পদ তিনি গ্রহণ করতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে দেশের মধ্যে কখনওই স্পষ্ট করে মুখ খোলেননি রাহুল গাঁধী। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের তরফে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনার ব্যাপারেও রাহুল বেশ সংরক্ষণবাদী। আমেরিকায় গিয়ে অবশ্য এ নিয়ে মুখ খুলতে খুব একটা দ্বিধা করেননি রাহুল।

আরও পড়ুন: পনীর-পলানীর মোক্ষম চালে ‘চিরন্তন’ নেত্রী আম্মা, অপসারিত শশিকলা

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কলেতে রাহুলকে সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল, ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে প্রস্তুত কি না? রাহুলের স্পষ্ট জবাব, ‘‘হ্যাঁ, আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু আমাদের দলে এই সিদ্ধান্ত হয় একটা সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং সেই প্রক্রিয়া এখন চলছে। ... ওই সিদ্ধান্তটা কংগ্রেসকেই নিতে হবে।’’

আরও পড়ুন: ‘ঘেউ ঘেউ করে লাভ নেই’, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে নিন্দায় কোর্ট

রাহুল গাঁধীর জন্য অবশ্য অস্বস্তিকর প্রশ্নও ছিল বার্কলের এই কর্মসূচিতে। তিনি পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি করেন, এমন অভিযোগ তাঁর সম্পর্কে কেন শোনা যায়? প্রশ্ন ছিল এমনই। এই প্রশ্নের জবাব একটু হাল্কা মেজাজেই দিয়েছেন রাহুল। গোটা ভারতই পরিবারতন্ত্রের ভিত্তিতে চলে, জানিয়েছেন রাহুল। অখিলেশ যাদব, এম কে স্ট্যালিন, অনুরাগ ঠাকুরের মতো রাজনীতিক, মুকেশ অম্বানী-অনিল অম্বানীদের মতো শিল্পপতি, অভিষেক বচ্চনের মতো অভিনেতা— এঁদের উদাহরণ তুলে ধরেন রাহুল। গোটা দেশেই যখন পরিবারতন্ত্রের নানা দৃষ্টান্ত রয়েছে, তখন শুধু তাঁকে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়, রসিকতার ঢঙে জবাব কংগ্রেস সহ-সভাপতির।