ব্যঙ্গের জবাব বিনয়ে! রাহুল গাঁধীকে আক্রমণ করতে গিয়েও এখন দু’বার ভাবতে হচ্ছে বিজেপিকে। কারণ, কংগ্রেসের হবু সভাপতিকে যতই আক্রমণ করা হচ্ছে, ততই পরিণত হচ্ছেন তিনি। আজ ভুল স্বীকারের মোক্ষম টুইটে ফের তার প্রমাণ দিয়েছেন রাহুল। আর তাঁর এই পরিণত কৌশলই এখন গুজরাতের ভোটে চিন্তায় ফেলেছে বিজেপিকে। রাহুল এমন ভাবে টুইটের কথাগুলি সাজিয়েছেন যে, বিজেপির পক্ষে সরাসরি তার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়!’’ আবার চুপ থাকলেও অস্বস্তির কাঁটা খচখচ করে। কংগ্রেসের নেতারা বলতে ছাড়ছেন না, ‘নরেন্দ্রভাইয়ের মতো নই, আমি মানুষ’— এর মানেই তো হল রাহুল প্রশ্ন তুলছেন, নরেন্দ্র মোদী কি মানুষ নন?’’

মন্দির-মসজিদ, হিন্দু-মুসলমান, বাবর-ভক্ত, খিলজির বংশধর— গুজরাতের চরম ভোট উত্তাপের মধ্যে প্রতিপক্ষ শিবিরের নেতার থেকে এমন একটি অচেনা টুইটের মোকাবিলা কী ভাবে হবে, তা নিয়ে দিনভর হিমশিম খেয়েছে বিজেপি।

রাহুলকে হালকা চালে নিতে পারছেন না মোদীও। এটা ঘটনা, আজও তিনি রাহুলের ক’দিন আগের ভুল নিয়ে ভোট-সভায় ব্যঙ্গ করেছেন। শিল্পপতিদের ৪৫ হাজার একর জমি দেওয়ার কথা বলতে গিয়ে রাহুল মুখ ফস্কে ৪৫ হাজার কোটি একর বলেছিলেন। কিন্তু রাহুলকে হাসির খোরাক করার চেষ্টা করলেও তাঁর তোলা অভিযোগগুলির জবাবও মোদীকে দিতে হয়েছে আদিবাসী এলাকায় গিয়ে। বলতে হয়েছে, গরিবদের জন্যই তিনি কাজ করে চলেছেন। ‘অম্বানী-আদানি’দের জন্য শৌচালয় বানাননি।

হিন্দু-অনগ্রসরদের কাছে টানতে তৎপর রাহুল। এর পাল্টা দলিত রাজনীতি করতে হচ্ছে মোদীকে। কাল দিল্লিতে অম্বেডকর ভবনের উদ্বোধন করবেন। তার আগে গুজরাতের তফসিলি জাতি, উপজাতিদের উদ্দেশে অডিও-প্রচার করবেন। পরশু থেকে ফের দু’দিনের সভা। এমনকী, প্রথম দফার ভোটের দিন ৯ ডিসেম্বরেও। সেটি সনিয়া গাঁধীর জন্মদিন। কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, ‘‘মোদী যদি প্রথম দফার ভোটের দিন দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার করতে পারেন, তা হলে রাহুলও করবেন না কেন?’’ রাহুল ব্যস্ত তারই প্রস্তুতিতে।