চার বছর আগে হয়েছিল বিপর্যয়। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী, বাগেশ্বর, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি এবং পিথোরাগড়ের মতো এলাকায় পুনর্নিমাণের কাজ চলছেই।

২০১৩ সালের প্রবল বৃষ্টিতে ২,৩৮৫টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ১৩টি জাতীয় সড়ক, ৩৫টি রাজ্য সড়ক এবং ১৭২টি মাঝারি ও ছোট সেতু। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব অমিত নেগী স্বীকারই করে নিয়েছেন, কিছু প্রকল্প শেষ হতে আরও এক বছর সময় লাগবে। বিশেষ প্যাকেজের অঙ্গ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ১০৪টি রাস্তায় ৮৮২ কোটি টাকা খরচ করে পুর্নর্নিমাণের কাজ চলছে।

বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া যে এখনও বেশ শ্লথ তা ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করে নিচ্ছেন রাজ্যের আমলারা। তবে তাঁদের দাবি, পুর্নর্নিমাণের সময়ে যে সব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল সেখানেও রাস্তার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকারি সূত্রের আরও দাবি, গত চার বছরে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের শক্তি বাড়ানো হয়েছে। নেগীর দাবি, রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তিনটি কোম্পানি এখন যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য পুরোদস্তুর তৈরি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তার ফলে আধুনিক উপকরণও কিনেছে রাজ্য।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপর্যয়প্রবণ এলাকাগুলিতে এখনও বহু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বাকি। নদীর একেবারে পাশে বাড়ি তৈরির উপরে নিষেধাজ্ঞা সঠিক ভাবে কার্যকর করা যায়নি। নদীতীরে বাড়ি, হোটেলের সঠিক সংখ্যাও এখনও জানে না রাজ্য প্রশাসন।

এখনও পুর্নবাসনের ব্যবস্থা হয়নি ৪৫০টি গ্রামে। রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মদন কৌশিকের দাবি, ‘‘অর্থের অভাব আর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্যই পুর্নবাসনের কাজ আটকে রয়েছে। আগের সরকার কোন গ্রামগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত তা-ই স্থির করতে পারেনি।’’