দিন দুপুরে শ্রীনগরের বুকে হাসপাতাল থেকে জঙ্গি নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেল তার সহযোগীরা। ফলে কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযান কতটা সফল হচ্ছে তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠে গেল।

২০১৪ সালে শোপিয়ান থেকে গ্রেফতার হয়েছিল উপত্যকায় লস্করের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা পাকিস্তানি নাভিদ জাট ওরফে আবু হানজালা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়ে নাগবলে এক শিক্ষকের হত্যা-সহ বেশ কয়েকটি ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

আজ সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ শ্রীনগর সেন্ট্রাল জেল থেকে নাভিদ-সহ ৬ জন বন্দিকে শ্রী মহারাজা হরি সিংহ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পুলিশের দল যখন হাসপাতালে ঢোকার টিকিট সংগ্রহ করছে তখনই আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু হয়। গোয়েন্দাদের মতে, আগে থেকে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিল জঙ্গিরা। জঙ্গিদের গুলিতে মুশতাক আহমেদ ও বাবর আহমেদ নামে দুই পুলিশকর্মী নিহত হন। গোলমালের সুযোগে পালায় নাভিদ। বাবর আহমেদের রাইফেল নিয়েও পালিয়েছে জঙ্গিরা। গুলিবৃষ্টি শুরু হওয়ার পরেই হাসপাতাল চত্বর কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। অজ্ঞান হয়ে যান কয়েক জন রোগী। পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি শুরু করেছে সিআরপিএফ ও পুলিশ। হাসপাতালে আপৎকালীন পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।

গোয়েন্দাদের মতে, ক্রমাগত অভিযানের ফলে উপত্যকায় লস্করকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনও নেতা অবশিষ্ট নেই। ফলে নাভিদকেই সেই দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভেবেছে লস্কর এবং আইএসআই। তবে যে ভাবে তাকে জঙ্গিরা ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মন্ত্রক সূত্রের মতে, রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতায় সেনা ও আধাসেনা জঙ্গি দমন অভিযান চালাচ্ছে। সাফল্যও পাওয়া যাচ্ছে। মন্ত্রকের কর্তাদের মতে,  খুবই দুঃখজনক ঘটনা। নাভিদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল।