নিজের স্কুটারটি নিয়ে কাছেরই একটি পার্কে গিয়েছিল বছর আঠেরোর গুলফাম। সেখানে গিয়ে দেখা হয়ে যায় কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে। বন্ধুর স্কুটার দেখেই তাদের মধ্যে এক জন আবদার করে বসে সেটি চালাতে দেওয়ার জন্য। বয়সে ছোট সেই ছেলেটিকে গাড়ি দিতে অস্বীকার করে গুলফাম। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, ছেলেটিকে চড়ও মারে সে। তখনকার মতো বিষয়টি ধামাচাপা পড়লেও গুলফামকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মনে মনে ফন্দি আঁটে ওই কিশোর।

ঘটনার কয়েক দিন পরেই গুলফামকে বাড়িতে গিয়ে শাসিয়ে আসে ওই কিশোর। কিন্তু গুলফাম বিষয়টিতে মোটেই গুরুত্ব দেয়নি। গত ১৫ জুন গুলফামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় কর্ণ, সানি নামে দুই সঙ্গী-সহ ওই কিশোর। তারা এক সঙ্গে পার্কে যায়। অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পরই গুলফামের উপর হামলা চালায় ওই তিন জন। কর্ণ ও সানি গুলফামকে চেপে ধরে, আর ওই কিশোর ছুরি দিয়ে কোপায় তাকে। তার পরই গুলফামকে সেখানে ফেলে চম্পট দেয় ওই তিন জন। স্থানীয় বাসিন্দারা গুলফামকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পূর্ব দিল্লির নন্দ নাগরি এলাকায়।

আরও পড়ুন: নাগাল্যান্ড থেকে অস্ত্র আসছে দার্জিলিঙে, রাজ্যকে জানিয়েছিলেন গোয়েন্দারা

গুলফামের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কর্ণ ও সানিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে মূল অভিযুক্ত ওই কিশোর পলাতক। জেরায় কর্ণ ও সানি পুলিশকে জানায়, গুলফাম ও সানি দুই বন্ধু। মাসখানেক আগে স্কুটার নিয়ে একটি ছেলের সঙ্গে গুলফামের ঝামেলা হয়। গুলফাম ছেলেটিকে চড় মারে। তার পরই ওই কিশোর ‘দেখে নেব’ বলে গুলফামকে বাড়িতে গিয়ে শাসিয়ে আসে। তারা আরও জানায়, গুলফামকে উচিত শিক্ষা দিতে ওই ছেলেটিকে সাহায্য করার জন্য রাজি হয়ে যায়। গত ১৫ জুন তিন জন মিলে গুলফামকে খুন করার পরিকল্পনা করে।