তিন দিক থেকে আক্রমণ নরেন্দ্র মোদীকে।

এক জন প্রশ্ন তুলছেন, ‘‘নোট বাতিলে আত্মহত্যা কত হল, হিসেব রেখেছেন?’’

আর এক জনের সহাস্য মন্তব্য, ‘‘জিএসটি নিজেই বুঝিনি, অন্যকে কী বোঝাব?’’

আর তৃতীয় জনের তোপ, ‘‘নরেন্দ্র মোদী তো প্রশ্নই নেন না। কৃষকদের সমস্যা সমাধানেও কোনও গা নেই।’’

কথাগুলি নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই ভাষাতেই বিঁধে আসছে বিরোধীরা। কিন্তু নতুনত্ব হল, এখন এই সব কথা বলছেন বিজেপিরই সাংসদ-বিধায়কেরা। বছর দুই আগেও প্রকাশ্যে মোদীর বিরুদ্ধে এমন কথা বলার সাহস পেতেন না বিজেপির কোনও নেতা। এখন সেটিই ঘটতে শুরু করেছে।

দেশের তিন প্রান্তের তিন বিজেপি নেতা। এক জন মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসী থেকে শ’খানেক কিলোমিটার দূরে ইলাহাবাদের সাংসদ শ্যামাচরণ গুপ্ত। দ্বিতীয় জন বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ ধ্রুবে। আর তৃতীয় জন আরএসএস সদর দফতর নাগপুরের কাছে ভান্ডারার বিজেপি সাংসদ নানা পাটোলে।

একটি সূত্র জানাচ্ছে, গত কাল সংসদের অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শ্যামাচরণ গুপ্ত অর্থ মন্ত্রকের কর্তাদের প্রশ্ন করেন, ‘‘সরকার কি জানে, নোট বাতিলের ফলে অসংগঠিত ক্ষেত্রের হাল কী হয়েছে? কত জন কর্মী আত্মহত্যা করেছেন, তার হিসেব রেখেছে সরকার?’’ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, বৈঠকে উপস্থিত বিজেপির অন্য সাংসদেরা শ্যামাচরণকে থামানোর চেষ্টা করেননি। কিংবা সরকারকে আড়াল করেননি। অথচ আগে এমন বৈঠকে বিরোধী পক্ষের কোনও নেতা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই রে-রে করে উঠত বিজেপি। 

আরও পড়ুন: রূপাণীর সঙ্কটে কি দলেরই হাত!

দু’দিন আগেই নোট বাতিলের বর্ষপূর্তিতে সকলকে উৎসবে মাততে বলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিরোধীদের ‘কালো দিবসে’র জবাব দিতে। এমনই এক অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ ধ্রুবে বলে বসেন, ‘‘আমি নিজেই জিএসটি বুঝিনি। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ব্যবসায়ীরাও বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন।’’ ধ্রুবের ওই ভিডিও আজ সকাল থেকেই ভাইরাল  সোশ্যাল মিডিয়ায়, বৈদ্যুতিন সংবাদমধ্যমে ।

এরই মধ্যে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সাংসদ নানা পাটোলে ১ ডিসেম্বর কৃষকদের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্র-বিরোধী সভারই আয়োজন করে ফেলেছেন। সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যশবন্ত সিন‌্‌হা, শত্রুঘ্ন সিন্‌হার মতো ‘চেনা’ মোদী-বিরোধী নেতাকে। এই পাটোলেই মাস কয়েক আগে বলেছিলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী প্রশ্ন নিতে পছন্দ করেন না।’’ আজ তিনি বলেন, ‘‘কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক নন। এখনও কৃষক আত্মহত্যা চলছেই।’’ এ সবের পাশাপাশি যশবন্ত সিন্হাও এ দিন তোপ দেগেছেন বিজেপি মোদী-অমিত শাহে জুটির বিরুদ্ধে।

স্বাভাবিক ভাবেই দলের অন্দরে এমন বিরুদ্ধ সুর মাথা চাড়া দেওয়ায় ও সে সব প্রকাশ্যে চলে আসায় বিব্রত বিজেপি। দলের নেতৃত্ব তা-ও বলে যাচ্ছে, এটাই দলের গণতন্ত্র।

কংগ্রেসের বক্তব্য, রাশ আলগা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর। এত দিন ভয় দেখিয়ে যা চাপিয়ে রাখা হয়েছিল, এখন রাহুল গাঁধী সকলকে নির্ভয় হতে শেখাচ্ছেন।