গত সপ্তাহে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে বেজায় ধকল গিয়েছে তৃণমূল সাংসদদের।

হাতে ব্যান্ডেজ অনুপম হাজরার। ভারতের প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান পায়ে চোট। কাকলি ঘোষদস্তিদার কোনও রকমে ক্যালশিয়াম ট্যাবলেটে নিজেকে তরতাজা রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত প্রবীণ সৌগত রায়, শিশির অধিকারীরদের গলা ধরে গিয়েছে ঠান্ডা এবং অবিরত স্লোগানে।

আগের দু’দিনে এঁদেরই জঙ্গি আন্দোলন প্রশ্ন তুলেছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নিরাপত্তা নিয়ে। গত কাল থেকে ‘মত’ না বদলালেও পথ বদলেছেন সৌগতরা। সোমবারের পরে আজও সাউথ অ্যাভিনিউয়ের মিঠে রোদে বসে ‘শান্তিপূর্ণ’ মোদী-বিরোধী ধর্নায় সামিল হয়েছেন জনা তিরিশ তৃণমূল সাংসদ।

তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বললেন, ‘‘এ ছাড়া উপায় ছিল না। প্রত্যেক দিন একই দৃশ্যকল্পের পুনরাবৃত্তি জমতে পারে না। সেই আমরা কোথাও যাচ্ছি, পুলিশ আসছে, আর আমাদের আটক করছে! তাই একটু স্বর বদল আর কি!’’

কী রকম সেই স্বর বদল?

কিছু সাংবাদিক ছাড়া সাউথ অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাথ এমনিতে ছিল জনশূন্য। ডেরেক জানাচ্ছেন, আজ এই ফাঁকা ময়দানেই যাঁরা গোল (বক্তৃতা) দিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকে সেই সময়ে ফেসবুকে ‘লাইভ’ ছিলেন! ‘‘হাজার হাজার তৃণমূল সমর্থক লাইভ শুনেছেন বক্তৃতা’’, বললেন ডেরেক।

কী শুনেছেন তাঁরা বক্তৃতায়? কখনও নাম করে, কখনও না-করে নরেন্দ্র মোদীর মুণ্ডপাত। সুখেন্দুশেখর রায় যেমন বলেছেন, ‘‘উয়ো হাত মুঝে দে দে ঠাকুর!’’

কোন হাত? বুঝিয়ে দিলেন সুখেন্দু, ‘‘ভি শান্তারামের ছবির মতো আইনেরও ‘দো আঁখে বারা হাত’। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইন যদি একচোখো হয় এবং দিল্লির পার্লস সংস্থা-সহ বিভিন্ন চিট ফান্ডকে না দেখে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের দিকে হাত বাড়ায়, তা হলে হাত কেটে নেব!’’ পিএমও অভিযানের দিন প্রবল ধাক্কা খেয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগের দিনও থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে ঘাড়ে আঘাত পেয়েছিলেন। আজ বললেন, ‘‘পুলিশ আমাকে পিছন থেকে মেরেছে।’’

একটি বিস্ফোরক অভিযোগও এনেছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, সংসদ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক দূত এসে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন যে, মোদী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সুদীপ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। কল্যাণের অভিযোগ, এরই জেরে সুদীপকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

কাকলি তাঁর বক্তৃতায় বললেন, ‘‘ঝাঁটা দিয়ে নোট পরিষ্কার করা যায় না। অর্থনীতি পরিশুদ্ধ করতে হলে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।’’ দুপুরের পরে রোদ কিঞ্চিৎ কড়া হয়ে ওঠায় নোট বাতিল-বিরোধী পোস্টার দিয়েই মুখ ঢেকেছিলেন ইদ্রিশ আলি। রত্না দে নাগের একটু চোখ জড়িয়ে এসেছিল রোদের আরামে। তবে বাকিরা গর্জনে সমর্থন করেছেন কাকলিকে। বারবার লাফিয়ে উঠে ‘শেম’ ‘শেম’ আউড়েছেন সৌমিত্র খান।

গোটা দিনই অক্লান্ত স্লোগান দিয়েছেন প্রসূন। এখনও সকালে এক ঘণ্টা দৌড়ন। স্প্রিন্ট টানেন। ‘অর্জুন’ ফুটবলারের পায়ে চোটটা লাগে
পুলিশ তাঁকে বাসে তোলার সময়ে। ক্ষুব্ধ প্রসূনের কথায়, ‘‘যে ভাবে আমাকে চ্যাংদোলা করে বাসে তোলা হয়েছে, আমি অপমানিত। বিষয়টি সংসদে বলব।’’

এক ফাঁকে ছিল মধ্যাহ্নভোজের বিরতি। আর সন্ধ্যায় ধর্না শেষ হল সাউথ অ্যাভিনিউ-এর সার্ভিস লেন দিয়ে মিছিলে। আগামিকাল দুপুর দু’টোয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নোট বাতিল নিয়ে অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের।