লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছিল তাঁর দল এবং তাঁর পরিবার। সংসদের অন্দরে এ দিন সে সবের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল না তাঁর সামনে। কিন্তু সভার বাইরে বেরিয়েই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী বুঝিয়ে দিলেন, আর হজম করবেন না মোদীর শ্লেষ। কর্মসংস্থান, কৃষিঋণ মকুব এবং রাফাল চুক্তি— মূলত এই তিন প্রশ্নে বুধবার রাহুল জোর বিঁধলেন মোদীকে। মনে করিয়ে দিলেন, মোদী এখন আর বিরোধী দলের কোনও নেতা নন, তিনি প্রধানমন্ত্রী। অতএব প্রশ্ন তোলা নয়, উত্তর দেওয়াই তাঁর কাজ।

‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে তিনি দুর্নীতি বরদাস্ত করবেন না। কিন্তু এখন তিনি রাফাল কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের আড়াল করছেন। কুকর্মে তাঁর সহযোগিতা সংক্রান্ত যে সব প্রশ্ন উঠছে, ৯০ মিনিটের ভাষণে সে সব প্রশ্নের জবাব কেন দিলেন না প্রধানমন্ত্রী?’ বুধবার এমন প্রশ্নই তুলেছেন রাহুল।

কংগ্রেসের পাপের বোঝা বইতে হচ্ছে দেশকে— এ দিন নিজের ভাষণে নরেন্দ্র মোদী একাধিক বার বলেছেন এ কথা। দেশভাগের দায় তিনি কংগ্রেসের উপরে চাপিয়েছেন। দেশভাগের বোঝা এখনও ভারতের মানুষকে বইতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। নেহরুর কারণে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজ্য সরকারকে ইচ্ছা মতো বরখাস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। দেশে এখন কালো টাকা, দুর্নীতি এবং দালাল রাজের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে বলেই কংগ্রেস এত অখুশি, এমন মন্তব্যও করেছেন মোদী।

লোকসভায় মোদীর ভাষণ শেষ হওয়ার পরে সভাকক্ষের বাইরে কংগ্রেস সভাপতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানেই তিনি মোদীর অভিযোগগুলির জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘এটা কোনও নির্বাচনী জনসভা নয়। ২০১৪ সালের আগে নরেন্দ্র মোদী গত ৬০ বছরের শাসকদের নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন কেন, তা আমি বুঝি। কিন্তু এখন তো তিনি বিরোধী নেতা নন, এখন তিনি ক্ষমতায়। তাই আমাদের দোষারোপ করার বদলে তাঁকে প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে হবে।’’

আরও পড়ুন: দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা বেড়েছে, সবার উপরে উত্তরপ্রদেশ

সংসদ চত্বরে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে এ দিন বার বার রাফাল প্রসঙ্গ টেনেছেন রাহুল। রাফাল চুক্তিতে দুর্নীতি হয়েছে বলে রাহুল গাঁধীর দাবি। ‘‘কী দামে রাফাল ফাইটার জেট কেনা হচ্ছে, তা মোদী সকলকে বলছেন না কেন? তিনি নিজে কি চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করেছেন?’’ প্রশ্ন কংগ্রেস সভাপতির।

আরও পড়ুন: বেঙ্কাইয়া-বয়কটে এককাট্টা বিরোধীরা

রাহুলের কটাক্ষ, ‘‘আমার মনে হয়, মোদী ভুলে গিয়েছেন যে, তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী এবং গত চার বছরে তাঁর সরকার কী করল, তার জবাব তাঁকে দিতে হবে।’’ ২০১৪-র নির্বাচনের আগে যুবকদের জন্য ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদী। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পেরেছে সরকার? জানতে চেয়েছেন রাহুল। প্রতিশ্রুতি যদি পূরণ না হয়ে থাকে, তা হলে আগামী এক বছরে তা পূরণ করার জন্য মোদীর সরকার কী কী পদক্ষেপ করবে? তাও জানতে চেয়েছেন বিরোধী দলের সভাপতি। কৃষকদের দুর্দশা ঘোচানোর বিষয়ে এবং কৃষিঋণ মকুবের বিষয়ে কী ভাবছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার? সে প্রশ্নেও এ দিন মোদীর জবাব চেয়েছেন রাহুল।

নির্বাচনের ময়দানে মোদী যা খুশি বলতেই পারেন, কংগ্রেসের কাছে জবাব চাইতেই পারেন, কিন্তু সংসদে তা চলবে, সংসদে তাঁকে দেশবাসীর প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। মন্তব্য করেছেন রাহুল গাঁধী। দেশ মোদীর কাছে জবাব চাইছে আর তিনি জবাব দেওয়ার বদলে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ছেন, কটাক্ষ রাহুলের।