কাগজে-কলমে আছে। কিন্তু বাস্তবের জমিতেও যে কোনও সময় যে কোনও জায়গায় স্বাধীন ভাবে যাতায়াতের অধিকার চেয়ে পথে নামলেন চণ্ডীগড়ের মহিলারা। আপাত ভাবে এই জমায়েত হরিয়ানার রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুভাষ বারালার ছেলে ও তাঁর বন্ধুদের হাতে বর্ণিকা কুণ্ডূর হেনস্থার প্রতিবাদে। তবে শুধু বর্ণিকা একা নন। দেশ জুড়ে আরও অসংখ্য মেয়ে নির্যাতিতা হচ্ছেন। চণ্ডীগড়ের মেয়েরা কাল পা মেলালেন তাঁদেরও সমর্থনে। নাম ‘বেখফ আজাদি মার্চ’ তথা আতঙ্কহীন মুক্তি মিছিল। যার পথ ও সময়, দুই-ই ছিল ছিল প্রতিবাদেরই অঙ্গ।

শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ সেক্টর ১৬-র রোজ গার্ডেন থেকে শুরু হয়ে সেক্টর ১০-১১ ধরে এগিয়ে যান কয়েক’শো মহিলা। এটা এমন সময়, যা মেয়েদের জন্য সে অর্থে ‘নিরাপদ নয়’। যে সময়ে পথে বেরোলে পুরুষেরা প্রশ্ন তোলে, এত রাতে পথে কেন? সাহস করে হেনস্থার ঘটনা সকলের সামনে আনার পরে যে প্রশ্ন বিঁধেছে বর্ণিকাকেও। মিছিলের যাত্রাপথ হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ঠিক সেই রাস্তাটি, যেখানে বর্ণিকার গাড়ির পিছনে ধাওয়া করেছিল বিকাশ বারালারা। দেশ জুড়ে বিকাশদের মতো যারা মেয়েদের হেনস্থা করে চলেছে তাদের বিরুদ্ধে মুখর ছিল মিছিলের প্রতিটি পোস্টার-প্ল্যাকার্ড। শহরের রাস্তায় চলতে ফিরতে প্রতি দিন যে হেনস্থা, কটূক্তি, কুৎসিত অঙ্গভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয় মহিলাদের, তারই প্রতিবাদ জানাতে জানাতে এগোয় মোমবাতি মিছিল।

রাতের আঁধারে পথে হাঁটতে হাঁটতেই অ্যামি সিংহরা বলছিলেন, ঠিক একই ভাবে দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছিল নির্ভয়া-কাণ্ডের পরেও। তবে পরিস্থিতি যে একচুলও বদলায়নি, বারবারই সেই সত্যটি নগ্ন ভাবে বেরিয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবু হাল ছাড়তে রাজি নন অ্যামিরা। বললেন, ‘‘মেয়েদেরও স্বাধীন ভাবে রাস্তায় চলাফেরার অধিকার রয়েছে। ছেলেরা তাঁদের হেনস্থা করতে পারে না। সেই বার্তা দিতেই পথে নেমেছি আমরা।’’

বর্ণিকার হেনস্থার পরে গত সপ্তাহে প্রথম ফেসবুকে এই মিছিলের ডাক দেন উদ্যোক্তারা। তাঁদেরই এক জন দিলেন হুঁশিয়ারি, ‘‘যে রাষ্ট্র মহিলাদের রক্ষা করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র নিজেও টিঁকে থাকতে পারে না।’’

সেই সঙ্গে জানিয়ে রাখলেন, এটা সবে শুরু।