ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্পষ্ট ভাবে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি লেখা রয়েছে। এ বার সেই শব্দটিকেই সরাসরি আঘাত করল বিজেপি। সোমবার বিজেপি নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটিকে সবচেয়ে বড় মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন। যা শুনে কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ওই দিন ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন আদিত্যনাথ। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন যোগী। মোদী-শাসিত দেশকে ‘রামরাজ্য’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ওই মঞ্চেই ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে নাম না করে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে গিয়ে আদিত্যনাথ বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে বড় মিথ্যাই হল ধর্মনিরপেক্ষতা। যাঁরা এই শব্দ প্রয়োগ করেন দেশবাসীর কাছে তাঁদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ, কোনও সিস্টেমই ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারে না।”

আরও পড়ুন

যৌন ভিডিও: সত্যি হল হার্দিকের আশঙ্কাই, তবে পাশে দাঁড়ালেন জিজ্ঞেসরা

পাড়ায় পাড়ায় মাটির ভাঁড় ঝুলিয়ে দিয়েছে অমদাবাদ, থমথমে মুসলিম মহল্লা

ছাত্র সংগঠনকে ভিত করে হিমাচল প্রদেশে লাল পতাকা তুলছে সিপিএম

যোগীর এই মন্তব্যের পর তাঁকে লক্ষ্য করে তোপ দেগেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল টুইটারে কটাক্ষ করে লেখেন, “যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা হল একটি মিথ্যা এবং মোদী সরকারের আমলে দেশ রামরাজ্য হয়ে উঠেছে। আসলে এই সত্যিটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যা।”

আদিত্যনাথের দাবি, ৫৫ বছরের কংগ্রেসি শাসনে দেশে তোষণের রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থপূরণের জন্য কংগ্রেসি জমানায় সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্ম হয়েছে। কংগ্রেসের নীতির জন্য দেশবাসীকে এখনও মূল্য চোকাতে হচ্ছে।” তবে কংগ্রেসি জমানার সমালোচনায় মুখর হলেও মোদী সরকারের ‘রামরাজ্যে’ দেশের উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি আদিত্যনাথের। তিনি বলেন, “ধর্ম, বর্ণ বা জাতির কোনও ভেদাভেদ করে না বিজেপি। গোটা দেশই একটা পরিবারের মতো বলে মনে করি আমরা।”

আদিত্যনাথের এই মন্তব্য নিয়ে যদিও বিজেপি-র তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।