দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল ভারতীয় দল। পোর্ট এলিজাবেথে পঞ্চম ওয়ান ডে-তে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭৩ রানে দুরমুশ করে ৬ ম্যাচের সিরিজ ভারত জিতল(৪-১), তাও এক ম্যাচ বাকি থাকতে। 

২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেন করতে নেমেছিলেন হাশিম আমলা ও মার্করাম। ৩২ রান করে বুমরার বলে কোহালিকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক। এর পর জেপি দুমিনি (১) ও এবি ডে ভিলিয়ার্স (৬)কে প্যাভেলিয়নে ফেরান হার্দিক পাণ্ড্য। দুমিনির ব্যাট থেকে ছিটকে যাওয়া বল জমা হয় রোহিত শর্মার হাতে। অন্যদিকে ডে ভিলিয়ার্স নিজের উইকেট দিয়ে আসেন স্বয়ং ধোনির হাতেই। কিন্তু অন্য ধারে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন আমলা। আমলা(৭১) আউট হতেই কার্যত আশা শেষ হয়ে যায় প্রোটিয়াবাহিনীর। যদিও শেষের দিকে ডেভিড মিলার(৩৬) ও হেনরিক ক্লাসেন(৩৯) কিছুটা আশা জাগালেও তাদের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধস নামে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে। ৪২.২ ওভারে ২০১ রানই অল আউট হয়ে যায় গোটা দল। জয়ের কারিগর সেই ভারতীয় স্পিনার জুটি। কুলদীপের দখলে ৪ টে আর চহালের সংগ্রহ ২ টো উইকেট। ১১৫ রান করে ম্যাচের সেরা রোহিত শর্মা।

সিরিজে আর একটা ম্যাচ বাকি। ভারত ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে। ষষ্ঠ ম্যাচে এই ব্যবধান ৫-১ করার লক্ষ্যে নামবে বিরাটবাহিনী।

টানা তিন ম্যাচ জিতে চতুর্থ ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল ভারতকে। বৃষ্টি সঙ্গে সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছিল বিরাট অ্যান্ড টিমকে। যে ম্যাচে সিরিজ সিলের কথা ভাবছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট সেই ম্যাচে হেরে আত্মবিশ্বাসেও কিছুটা ধাক্কা লেগেছিল ভারতীয় দলের। পঞ্চম ওয়ান ডে ছিল তাই ভারতীয় দলের কাছে কার্যত ফাইনাল।

পোর্ট এলিজাবেথে তাই ইতিহাস রচনা করতে মুখিয়ে ছিল ভারতীয় দল। যে লক্ষ্য ধাক্কা খেয়েছিল চতুর্থ ম্যাচে। ৩-০ থেকে ৩-১কে সঙ্গে করে নেমেছিল ভারত। লড়াইটা আসলে ছিল ভারতের রিস্ট স্পিনার বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং।

আরও পড়ুন
‘একটা ম্যাচ হারে চিন্তার কিছু নেই’

নিয়ম মেনেই ওপেন করতে নেমেছিলেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধবন। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শিখর ধবন এ দিন শুরুতেই ফিরলেন আউট হয়ে। ২৩ বলে ৩৪ রান করে রাবাডার বলে ফেলুকওয়াওকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ধবন। কিন্তু পুরো সিরিজে ফ্লপ করা রোহিত শর্মা পঞ্চম ম্যাচেই ফর্মে ফিরলেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল হাফ সেঞ্চুরি। রোহিতের হাফ সেঞ্চুরি হতেই ডাগ আউটে কোচ রবি শাস্ত্রীসহ সকলেই উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন এই সময়টার জন্যই টানা তাঁকে সুযোগ দিয়ে যাচ্ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট।  

২২.২ ওভারে প্রাণ ফিরে পেলেন বিরাট কোহালি। শামসির বলে স্টাম্প আউট প্রায় হয়েই গিয়েছিলেন। তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য নিয়েছিলেন অন-ফিল্ড আম্পায়ার। রিপ্লেতে দেখা গেল লাইনে রয়েছে বিরাটের পা। শেষ পর্যন্ত বিরাট কোহালি নট-আউট দিলেন আম্পায়ার। প্রাণ ফিরে পেল ভারতীয় ব্যাটিংও।কিন্তু তা খুব অল্প সময়ের জন্যই। ২৫.৩ ওভারেই ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে ৩৬ রান করে প্যাভেলিয়নে ফিরতে হল বিরাটকে। মর্কেলের বলে শট নিয়েছিলেন রোহিত। তা দেখে নিজের জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কোহালি। প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলেন বিরাট কিন্তু রোহিত রান নিতে অস্বীকার করায় ফেরার পথ ধরলেই সময়ে পৌঁছতে পারেননি অধিনায়ক। দুমিনির থ্রো সরাসরি গিয়ে লাগে স্টাম্পে।৮ রান করে রান আউট হলেন অজিঙ্ক রাহানেও।

শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করলেন রোহিত শর্মা। চলতি সিরিজে একে বারেই ফর্মে ছিলেন না রোহিত। ওডিআই সিরিজের প্রথম চারটি ম্যাচ থেকে তাঁর মোট সংগ্রহ ছিল ৪০। কিন্তু পঞ্চম ওডিআই তে রোহিত বুঝিয়ে দিলেন কেন তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সাহস দেখায় না টিম ম্যানেজমেন্ট। ১১৫ রান করে আউট হলেন রোহিত শর্মা। লুঙ্গি এনগিডির বলে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন রোহিত। এর পরই পর পর উইকেট হারানোর পালা। মাঠে নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন হার্দিক পাণ্ড্য(০)। এর পর লুঙ্গির শিকার শ্রেয়াস (৩০), ধোনি (১৩)।৫০ ওভারের শেষ ভারতের পাশে ২৭৪/৭। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একটি উইকেট নিলেন রাবাডা। চার উইকেট লুঙ্গির। আর সঙ্গে রয়েছে জোড়া রান আউট।

ভারতীয় দল: রোহিত শর্মা, শিখর ধবন, বিরাট কোহালি, অজিঙ্ক রাহানে, শ্রেয়াস আয়ার, এমএস ধোনি, হার্দিক পাণ্ড্য, ভুবনেশ্বর কুমার, কুলদীপ যাদব, যশপ্রীত বুমরা, যুজবেন্দ্র চাহাল।