শীর্ষ বাছাই রাফায়েল নাদালের এ বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন অভিযান আগের বারগুলোর চেয়ে আলাদা হতে চলেছে। এই প্রথম নাদাল কোনও প্রস্তুতি টুর্নামেন্টে না খেলেই বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে নামতে চলেছেন। পাশাপাশি এ বার তাঁর পাশে থাকছেন না তাঁর কাকা টোনি নাদাল। নাদাল অবশ্য বলে দিচ্ছেন, এ জন্য কোনও সমস্যা দেখছেন না তিনি।

শনিবার সাংবাদিকদের নাদাল বলেন, ‘‘আমি জানি, এই প্রথম কোনও প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট না খেলে আমি এখানে এসেছি। এটা আমার জন্য একটা নতুন পরিস্থিতি। তবে আমার কোনও সমস্যা হবে না। নিজেকে বেশ তরতাজাই লাগছে।’’

৩১ বছর বয়সি নাদাল মনে করছেন, তিনি যথেষ্ট প্রস্তুত হয়েই কোর্টে নামবেন। নাদাল বলছেন, ‘‘আমার মনে হয়, সপ্তাহ দেড়েক আমি ভালই প্র্যাক্টিস করেছি। মনে হয় প্রস্তুত হয়েই কোর্টে নামতে পারব। আশা করছি ভালই খেলব।’’

কোনও প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট খেলতে পারেননি বলে সংগঠকদের কাছে একটি অনুরোধ করেছিলেন নাদাল। বলেছিলেন, ডমিনিক থিয়েমের সঙ্গে ম্যাচ সিচুয়েশনে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দিতে। যেখানে স্কোরবোর্ড থাকবে, আম্পায়ার থাকবেন, বল বয় থাকবে। অর্থাৎ পুরোদস্তুর ম্যাচ পরিস্থিতি। সংগঠকরা সেই আবেদন মেনে নেন। যা নিয়ে নাদাল বলছেন, ‘‘আমি চেয়েছিলাম, একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। যেটা ম্যাচ কন্ডিশনে খেলা হবে। দু’জনেরই ভাল লেগেছে ওই ম্যাচটা খেলে।’’

এই টুর্নামেন্টে নাদালকে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে হবে তাঁর এক নম্বর র‌্যাঙ্কিং ধরে রাখতে। না হলেই রজার ফেডেরারের ছায়া আরও লম্বা হয়ে যাবে। তবে নাদালের কথায় পরিষ্কার, নিজেকে উদ্দীপিত করার মশলা তাঁর সামনে মজুদ আছে। নাদালের কথায়, ‘‘আমার মনে হয়, আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী না হন, তা হলে বলতে হবে আপনি টেনিসই ভালবাসেন না।’’

তবে নাদাল এটাও জানেন, মরসুমের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। ‘‘সবাই শূন্য থেকে শুরু করবে এখানে। একটা নতুন মরসুম শুরু হচ্ছে আবার। আশা করব, এই মরসুম জুড়ে সুস্থ থাকতে পারব। সবচেয়ে বেশি করে চাইব, আমি যেন টেনিসটা উপভোগ করতে পারি।’’

কাকা টোনি এখন নাদালের অ্যাকাডেমিতে কোচিং করাচ্ছেন। আর ভাইপো রয়েছেন কার্লোস ময়ার কোচিংয়ে। যা নিয়ে নাদাল বলছেন, ‘‘আমি টোনিকে যখন ইচ্ছে ফোন করে পরামর্শ নিতে পারি। আর ওর কিছু বলার থাকলে আমাকে ফোন করতেই পারে।’’