জাতীয় দলের সতীর্থ আওয়াধ ওয়ারিয়র্সের কিদম্বি শ্রীকান্তকে হারিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাডমিন্টন লিগে টানা ১০ নম্বর জয় পেলেন আহমেদাবাদ স্ম্যাশ মাস্টার্সের এইচএস প্রণয়। বিশ্বের এক নম্বর আহমেদাবাদের তাই জু ইং-য়ের বিরুদ্ধে জিততে পারলেন না আওয়াধের সাইনা নেহওয়ালও। তবু মঙ্গলবার টাইয়ে শেষ হাসি হাসল আওয়াধ ওয়ারিয়র্সই। তারা ৪-৩ হারাল আহমেদাবাদকে।

প্রথমেই এ দিন মিক্সড ডাবলসে জয় পেয়ে এগিয়ে গিয়েছিল আওয়াধ ওয়ারিয়র্স। ক্রিস্টিনা পেডারসন এবং তাং চুন মানের জুটি প্রথম গেমে হারার পরেও ১৪-১৫, ১৫-১২, ১৫-১৪ হারান কামিলা রাইটার জুল এবং ল চেউক হিমের জুটিকে।

এর পরেই পারুপাল্লি কাশ্যপ ট্রাম্প ম্যাচে সৌরভ বর্মাকে প্রথমে পিছিয়ে গিয়েও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে হারান ১১-১৫, ১৫-১৩, ১৫-১৪। প্রথম দু’ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে আওয়াধ ওয়ারিয়র্সের জয় যখন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছিল তখনই আহমেদাবাদকে টাইয়ে ফেরান প্রণয়। গত মরসুমের পিবিএল থেকে অপরাজিত প্রণয় ১৫-৮, ১৫-১১ হারান শ্রীকান্তকে। এর পরের ম্যাচেই সাইনা হেরে যান তাইজুর বিরুদ্ধে ৫-১৫, ১৪-১৫। তবে শেষ ম্যাচে পুরুষদের ডাবলসে আওয়াধের টি সি ম্যান এবং এইচ সেতিয়াওয়ান ১৫-১৪, ১৫-১০ আহমেদাবাদের এল সি রেজিনাল্ড এবং কে নন্দগোপালকে হারিয়ে আওয়াধের জয় নিশ্চত করে ফেলেন।

ম্যাচের পরে প্রণয় বলেন, ‘‘দলের জন্য খুব প্রয়োজনীয় পয়েন্ট আনতে পেরে খুব খুশি। একই সঙ্গে টানা ১০ বার প্রিমিয়ার ব্যাডমিন্টন লিগে জেতার ব্যাপারটা সবসময়ই বিশেষ একটা ব্যাপার।’’ প্রণয় পিবিএলের নিলামে এ বার সর্বোচ্চ দর পেয়েছিলেন। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘নতুন দল আমাদের। আমার উপরে অনেক ভরসা রেখেছে দল। তাই হয়তো সর্বোচ্চ দর পেয়েছি। এই ভরসার দাম আমাকে দিতেই হবে।’’ সতীর্থকে হারিয়ে সেই কথাই যেন রাখলেন তিনি।

সাইনা নেহওয়াল আগেই বলেছিলেন তিনি নিজের ফিটনেসে খুশি নন। আরও বাড়াতে হবে ফিটনেস। প্রথম টাইয়ে তিনি চোটের জন্য নামতেও পারেননি। এ দিন সাইনা প্রথম গেমে তাই জু-র বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেননি। তবে দ্বিতীয় গেমে সাইনা ঘুড়ে দাঁড়ানোর প্রবল চেষ্টা করেন। স্টেডিয়ামের দর্শকরাও সাইনা, সাইনা বলে প্রবল সমর্থন করে যাচ্ছিলেন। আওয়াধের ডাগ আউটে এ দিন আবার ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার সুরেশ রায়নাও। তবে বিশ্বের এক নম্বরকে চাপে রাখলেও সাইনার বিরুদ্ধে শেষ হাসি হাসেন তাই জু-ই।