নেরোকা এফসি-র বিরুদ্ধে ড্রয়ের ধাক্কায় স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তনের ভাবনা ইস্টবেঙ্গল কোচ খালিদ জামিলের!

ইম্ফলে নেরোকার বিরুদ্ধে গত শনিবার প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেননি মহম্মদ আল আমনা-রা। অতি রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়েই শেষ মুহূর্তে গোল খেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আজ, নয়াদিল্লির অম্বেডকর স্টেডিয়ামে ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চান না খালিদ। লাল-হলুদ কোচের কথায়, ‘‘অ্যাওয়ে ম্যাচ বলেই নেরোকার বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলাম। তবে ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে গোল করে এগিয়ে গেলেও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব না।’’

উড়ান বিভ্রাটে বিধ্বস্ত কাতসুমি ইউসা-রা রবিবার সাড়ে দশটার পরে নয়াদিল্লি পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার পথে টিম বাসেই নববর্ষ পালন করেন ফুটবলাররা। এ দিন দুপুরে অম্বেডকর স্টেডিয়ামে ঘণ্টাখানেক অনুশীলন করান খালিদ। তবে উইলিস প্লাজার খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত লাল-হলুদ শিবিরে। নেরোকার বিরুদ্ধে চোট পেয়ে প্রথমার্ধে উঠে গিয়েছিলেন তিনি। এ দিন দিল্লিতে তাঁর চোটের এমআরআই করানো হয়ছে। খালিদ জানিয়েছেন, ম্যাচের দিন সকালে পরীক্ষার পরেই প্লাজাকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিলেন ফিল সিমন্স

প্লাজাকে নিয়ে অস্বস্তির মধ্যেই লাল-হলুদ শিবিরে উদ্বেগ বাড়ছে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপারদের নিয়ে। আগের ম্যাচে দশ জনে খেলে মোহনবাগানকে আটকে দিয়েছিল রহিম আলি-রা। ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেছেন, ‘‘ইন্ডিয়ান অ্যারোজের প্রধান শক্তি দলগত ফুটবল। দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছে ওরা। বয়স কম হলেও ইন্ডিয়ান অ্যারোজের ফুটবলারদের একেবারেই হাল্কা ভাবে নেওয়া যাবে না।’’ তবে ধীরাজ সিংহ ইন্ডিয়ান অ্যারোজ ছাড়ায় যে তিনি খুশি, গোপন করেননি খালিদ। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, ‘‘ধীরাজ এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে অসাধারণ খেলেছিল। ওর না খেলাটা আমাদের পক্ষে ইতিবাচক।’’

এক নম্বর গোলরক্ষক দল ছাড়লেও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যে স্ট্র্যাটেজি বদলাচ্ছেন না, ইন্ডিয়ান অ্যারোজ কোচ লুইস নর্টন দে মাতোস স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, ‘‘আই লিগে খেলাটাই ফুটবলারদের আরও উজ্জীবিত করছে। মোহনবাগান ম্যাচে ছেলেরা প্রমাণ করেছিল— কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে জিতে মাঠ ছাড়া।’’ ইস্টবেঙ্গল কোচের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করেছেন মাতোস। বলেছেন, ‘‘খালিদ খুব ভাল কোচ। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগ দারুণ শক্তিশালী। ওদের ফরোয়ার্ডদের থামানো কঠিন।’’

ইন্ডিয়ান অ্যারোজ-বধের প্রস্তুতির মধ্যেই আই লিগের ক্রীড়াসূচি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনেকে চিঠি দিল ইস্টবেঙ্গল। ইম্ফলে নেরোকার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মূল স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে পারেননি অর্ণব মণ্ডল-রা। লাল-হলুদ শিবিরের অভিযোগ, গোকুলম এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে পরের দিন ভোরেই ইম্ফলের উড়ান ধরতে হয়েছে। মৌখিক ভাবে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে ম্যাচ পিছিয়ে দিতে রাজি হয়নি ফেডারেশন। এক সপ্তাহে তিনটি ম্যাচ খেলা ফুটবলারদের পক্ষে ক্লান্তিকর।

মঙ্গলবার আই লিগে: ইন্ডিয়ান অ্যারোজ বনাম ইস্টবেঙ্গল (দুপুর ২.০০, স্টার স্পোর্টস টু ও এইচডি টু চ্যানেলে সরাসরি)।