কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের সোমবারের লড়াইকে হয়তো অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আর একটা ম্যাচের বেশি কিছু  মনে হবে না। তবে গভীরে যদি যাওয়া যায়, দেখা যাবে বিশ্বকাপে আমরা এমন একটা দেশের মুখোমুখি হয়েছিলাম যাদের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ১০।

এটা ঠিক যে ফিফা র‌্যাঙ্কিং বয়স ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ধরা হয় না। কিন্তু ঐতিহ্যটা তো রয়েছে, যে নিরন্তর প্রয়াসের ফলে উঠে আসে বিশ্বমানের ফুটবলাররা।

তাই বলছি, ভারতীয় ফুটবলের দিক থেকে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের বিশ্বকাপের লড়াইয়ের বিরাট গুরুত্ব ছিল। এই লড়াইয়ে বুঝতে পারলাম, বিশ্ব ফুটবলে আমরা ঠিক কোন জায়গায় এখন দাঁড়িয়ে। সে দিন মাঠে ফুটবলারদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল, আর গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে ছিল আনন্দ আর গর্ব। যেটা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমাদের ফুটবলাররা মাঠে দুরন্ত আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে— ভারতের এই দলটাকে যে ভাবে তৈরি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেটার প্রতিফলন মাঠে বোঝা যাচ্ছিল। এ বার ভারতের সামনে ঘানার চ্যালেঞ্জ। কলম্বিয়ার মতো ঘানাকেও পাল্টা চাপে ফেলতে হবে। যখনই এই জিনিসটা আমাদের ছেলেরা করে দেখাতে পারবে, সমর্থকরাও কিন্তু ম্যাচটার সঙ্গে মিশে যাবে। তাতে জ্বলে উঠবে ফুটবলাররাই।

আরও পড়ুন: ম্যাকাওকে উড়িয়ে এশিয়া কাপে ভারত

আমরা যে নিজের দেশে খেলছি এই অনুভূতিটা যে রকম ফুটবলারদের থাকা প্রয়োজন, সমর্থকদেরও সেটা বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকটা মুহূর্ত কিন্তু দামি। ম্যাচে যাই হোক না কেন ১৩০ কোটি মানুষ পাশে রয়েছে। ফুটবলে আক্রমণ করার পাশাপাশি রক্ষণটাও কিন্তু ততটাই জরুরি। তবে ঘানা বা বিপক্ষ যেই হোক না কেন আমাদের শুধু রক্ষণাত্মক থাকার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামা উচিত নয়। সুযোগ তৈরি করতে হবে, সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ফুটবল শুধু খেলা নয়, একটা শিক্ষাও।