ঘানার কাছে চার গোলে হারকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ লুইস নর্টন দ্য মাতোস। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগে তিন ম্যাচে নয় গোল খাওয়াকেও স্বাভাবিক ঘটনা বলেছেন ভারতীয় যুব দলের পর্তুগিজ কোচ।

উল্টে নাম না করে কার্যত স্টিভন কনস্ট্যান্টাইনের সিনিয়র দলকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমরা কিন্তু নেপাল, ভুটান বা মলদ্বীপের বিরুদ্ধে খেলিনি। ওদের বিরুদ্ধে জেতা কোনও বড় ব্যাপার নয়। এটা বিশ্বকাপ। বিশ্বের সেরা দেশগুলো খেলে। তা ছাড়াও আমরা কোনও বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলে এখানে আসিনি। আর একটা কথা বলি, যাদের বিরুদ্ধে খেলেছি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশের কোনও টিম কখনও কিন্তু খেলেনি।’’

মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগে এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন সুনীল ছেত্রীরা। তাদের কোচ স্টিভন এ দিন এসেছিলেন যুব দলের খেলা দেখতে। মাতোস তা জানতেন কী না বোঝা গেল না। বলে দিলেন, ‘‘আমি যখন ছ’মাস আগে ভারতে এসেছিলাম তখন সবাই বলেছিল এত কঠিন গ্রুপে পড়েছে টিম, কত গোল খাবে? সবাই বলেছিল এক পয়েন্ট পেলেই আমরা খুশি হব। সেটা আমার মাথায় আছে। ঘানা, যুক্তরাস্ট্র বা কলম্বিয়ার সঙ্গে আমাদের ফারাকটা আমি জানি। তবুও ছেলেরা প্রথম দু’ম্যাচে যে ফুটবল খেলেছে তাতে আমি খুশি।’’ এ দিনের ম্যাচ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘সবদিক থেকে আমাদের চেয়ে ঘানা এগিয়েছিল। ওদের সঙ্গে তুলনায় গেলে আমরা পিছিয়ে থাকব। শুধু স্ট্রাইকার নয়, ওদের সাইড ব্যাকরাও গোল করে যেতে পারে। সবারই জানা, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ওরা কত শক্তিশালী। আমি সেনেগালে চার বছর কোচিং করিয়েছি। জানি ওরা কত শক্তিশালী।’’

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিন ম্যাচে নয় গোল তো হতাশ জনক ফল? তাতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাঁর মন্তব্য, ‘‘নিউজিল্যান্ড যখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল তেরো গোল খেয়েছিল। চিলির মতো টিম সাত গোল খেয়েছে। আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে চলেছি। সবে শুরু হয়েছে কাজ। ছেলেদের জন্য আমি গর্বিত। ওরা নিজেদের দুশো ভাগ দিয়েছে। দু’টো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার পর ওদের কিছু অবশিষ্ট ছিল না।’’

আরও পড়ুন: হারের জ্বালা থেকে ভারতীয় দলকে মুক্তি দিল ৫২ হাজারের গ্যালারি

এ দিন ঘানার বিরুদ্ধে আগের দিনের মতো জোড়া স্ট্রাইকার নিয়ে খেলেননি। বসিয়ে রাখেন কোমল থাটালের মতো শক্তপোক্ত ফুটবলারকে। এ সব অভিযোগ শুনে বিরক্ত মনে হল ধীরাজ সিংহদের কোচকে। চটেও গেলেন মনে হল। ‘‘ঘানার বিরুদ্ধে দুই স্ট্রাইকার! তা হলে তো সাত-আট গোল হয়ে যেত। সেটা কি ভাল হত? প্রথম পঁয়তাল্লিশ মিনিট কিছুটা খেললেও শেষে ছেলেরা দাঁড়াতেই পারছিল না।’’

এর পরে ভবিষ্যতের কথাতেও চলে যান মাতোস। ম্লান মুখে জানিয়ে দিলেন, ‘‘এই টিমটাকে ধরে রাখার জন্য ফেডারেশন যে আই লিগ খেলাচ্ছে এটা ভাল দিক। ১৮ টা ম্যাচ খেলে ওরা আরও তৈরি হবে। আমরা তো প্রস্তুতি ম্যাচ মরিশাসের বিরুদ্ধে  খেলেছিলাম। যারা আমাদের গোলে বলই মারতে পারে না। আই লিগের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেললে ওদের পারফরম্যান্স আরও ভাল হবে। আরও গর্বিত করবে দেশকে।’’ সঙ্গে সঙ্গে আইএসএল নিয়েও কটাক্ষ, ‘‘আইএসএলের টিমগুলো তো স্পেনে চতুর্থ ডিভিশন টিমের কাছে চার গোল খাচ্ছে। তার চেয়ে আই লিগ খেলাই ভাল।’’ তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও খুব একটা চিন্তিত মনে হল না মাতোসকে। বলেন, ‘‘কাল, শুক্রবার ফেডারেশন কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি এই টিমটার সঙ্গে থাকতে পারলেই খুশি হব।’’