কাল সকালের বিমানে দিল্লি হয়ে মিনার্ভা উড়ে যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল।  ১৩ ফেব্রুয়ারি মিনার্ভা এফসির বিপক্ষে নামবে লাল-হলুদ ব্রিগেড।  মিনার্ভা ম্যাচের পরের দিন গোকুলাম ম্যাচ খেলতে চণ্ডীগড় থেকে কেরলে উড়ে যাবে খালিদ ব্রিগেড।  ১৭ ফেব্রুয়ারি গোকুলাম এফসির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে নামবে আমনা-কাটসুমিরা। পর পর দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচই ইস্টবেঙ্গলের জন্য ফাইনাল।  

শুক্রবার ঘরের মাঠে অনুশীলনের পর মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য বললেন , ‘‘ মিনার্ভাকেও হারানো যাবে।  ওরা তো এর আগেও এই লিগে হেরেছে। এখন আমাদের কাছে সব ম্যাচই নকআউট।  ফুটবলারদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। অতীতে এ রকম অবস্থায় ফুটবলাররা নিজেদের ছাপিয়ে গিয়েছেন। সমর্থকরা আবেগপ্রবণ।  ওরা দুঃখ থেকেই ফুটবলারদের কটুক্তি করেন। এখন সকলের একসঙ্গে লড়াই করার সময়।  নিজেদেরএকসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’’

দীর্ঘদিন লাল-হলুদের ব্যাটন সামলানো মনাদা জানেন ক্লাব নিয়ে আবেগ কতটা। তাই হয়তো ঘুরে ফিরে সেই কথাই বলছেন। তাঁর মতে, সকলেই ক্লাবের ভাল চায়। বাইরে থেকে সমালোচনা করলে ক্লাবের ক্ষতি হয়। বলেন, ‘‘এই ক্লাব আমাদের পরিচিতি দিয়েছে। প্রাক্তন ফুটবলারদের এটা মাথায় রাখা উচিৎ। ঘোলা জলে সকলেই মাছ ধরতে পারে। আমি ক্লাবটাকে ভালবেসে কাজ করি। আমি বা কর্মকর্তারা না থাকলেও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবটা থেকে যাবে। মিডিয়ার সামনে যারা এই ক্লাবের বদনাম করছে তাদের আমি সমর্থন করি না। ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা এমন আচরণ করে।’’ 

আরও পড়ুন
কোপা দেল রে-এর ফাইনালে বার্সেলোনা

কোচ খালিদ জামিল বললেন , ‘‘ মনাদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক বরাবরই স্বাভাবিক ছিল।  মিনার্ভা ম্যাচ কঠিন ম্যাচ। ফুটবলারদের বলেছি , দিল সে খেলো।  কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনও সমস্যা কোনওদিনই ছিল না । অন্য দল নিয়ে ভাবতে চাইনা । সাফল্যই সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। পরিশ্রম করলে ভাগ্যও সঙ্গ দেয়।’’ তাঁর মতে,  লিগ এখনও ওপেন। সকলকে একসঙ্গে লড়াই করার আহ্বান করেছেন কোচ। চন্ডীগড়ের মাঠেরও প্রশংসা করেছেন খালিদ। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খালিদের ব্যাখ্যা, ‘‘ওরা ভাল দল। ডিফেন্স শক্তিশালী।  ওদের স্ট্রাইকাররাও গোল করতে পারে।’’ 

মিনার্ভা ম্যাচে মাঠে ফিরছেন আমনা। আমনা বলেন, ‘‘চোট প্রফেশনাল ফুটবলারদের অঙ্গ। এটা আই লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। চোটের সময় ভেঙে পড়েছিলাম। এখন মাঠে ফিরে ভাল লাগছে। আমাদের সমর্থকরাও আমাদেরকে সমর্থন করছেন। এই ম্যাচে সকলে একসঙ্গে লড়াই করতে চাই। মিনার্ভা একটা দল হিসেবে খেলে। চেঞ্চো মরশুমের সেরা ফুটবলার।  ওদের সকলেই ভাল ফুটবলার।’’ তাই প্রতিপক্ষকে কেউই হালকাভাবে নিচ্ছে না।