বুধবার সন্ধ্যায় লাল-হলুদ কর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এর পর বারো ঘণ্টাও পেরোল না। ইস্টবেঙ্গল প্র্যাকটিসে কোচিং করতে নেমে পড়লেন নেমে পড়লেন  রঞ্জন চৌধুরী। তবে একা নয়, যৌথভাবে। পরামর্শদাতা কমিটির অন্যতম মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে। 

মেহতাব হোসেন, অর্ণব-মণ্ডলদের নিয়ে রঞ্জন অনুশীলনে নামলেও দেখা গেল টিমের ‘অসুখ’ সারানোর কাজটা করছেন মনোরঞ্জন । বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম আধ ঘণ্টা রঞ্জন দলকে ওয়ার্ম আপ ও ফিজিক্যাল ট্রেনিং করালেও পরে দেখা যায়, বুকেনিয়া-দের রক্ষণের ভুলভ্রান্তি দূর করতে আসরে নেমে পড়েছেন ইস্টবেঙ্গলকে আই লিগ (তত্কালীন জাতীয় লিগ) দেওয়া মনোরঞ্জন। কখনও তিনি টিমের তিন ফরোয়ার্ড-এর বিরুদ্ধে স্টপারে অর্ণব, ইভান বুকেনিয়াকে রেখে রক্ষণ সামলানোর টোটকা দিলেন। কখনও বা দুই স্ট্রাইকার ও চার মিডফিল্ডার-এর  আক্রমণের উল্টো দিকে চার ডিফেন্ডারকে রেখে করালেন রক্ষণ সংগঠনের বিশেষ অনুশীলন। বুকেনিয়া, নারায়ণ দাশরা সামান্য ভুল করলেই ছুটে গিয়ে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলেকে। এখানেই শেষ নয়, প্র্যাকটিসের পর ইস্টবেঙ্গলের গত চার ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করে ডিফেন্ডারদের কোথায় ভুল হচ্ছে সেটাও দেখিয়ে দেন পরামর্শদাতা কমিটির অন্যতম সদস্য। ক্লাব সূত্রের খবর, ভুলভ্রান্তি কী ভাবে দূর করতে হবে সে ব্যাপারেও ফুটবলারদের কাছে তিনি বক্তব্য রাখেন। 

প্রশ্ন উঠছে, মনোরঞ্জন যদি কোচিং করান তা হলে তা হলে সহকারী কোচ হিসাবে আসা রঞ্জন চৌধুরীর কাজটা কী?  মনোরঞ্জনের এ ব্যাপারে  প্রতিক্রিয়া, ‘‘শেষ চার ম্যাচে সাত গোল খেয়েছে টিম। আমার চোখে রক্ষণের বেশ কিছু ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে। যার মধ্যে ডিফেন্ডারদের টার্নিং, ট্যাকলিং খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  এগুলো নিয়েই বুকেনিয়া ও অন্য ডিফেন্ডারদের সঙ্গে  আলোচনা করেছি।’’ সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘‘রঞ্জনই টিমের অনুশীলন করাবে। কিন্তু প্রথম দিকে সেই ভুলগুলো হাতে-কলমে ধরিয়ে দিয়ে তা সারানোর উপায় ফুটবলারদের জানাতেই আমার মাঠে নামা। এর মধ্যে বিতর্ক খুঁজবেন না।’’