চেন্নাই সিটি এফসির বিরুদ্ধে খেলার জন্য যখন ক্লাব তাঁবুতে ঢুকেছিলেন তখন সঙ্গেই ছিল পদত্যাগ পত্র। মানসিক ভাবে তৈরিও ছিলেন। কিন্তু, দুর্বল প্রতিপক্ষ চেন্নাই সিটি এফসির বিরুদ্ধে তাঁর দল যে এই ভাবে আত্মসমর্পণ করবে, তা হয়ত ভাবতে পারেননি সঞ্জয় সেন। প্রায় হাল ছেড়ে দেওয়ার ভঙ্গিতেই ঘরের মাঠে চেন্নাই সিটি এফসির বিরুদ্ধে ১-২ গোলে হেরে গেল মোহনবাগান।

যখন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে জানালেন নিজের পদত্যাগের কথা তখন সঞ্জয়ের মুখ থমথমে। যেন হাজার ভোল্টের আলোর মধ্যেও অমাবস্যা নেমে এসেছে বাগান সারথীর হৃদয়ে। আর হবে নাই বা কেন! যে ম্যাচটা একটু চেষ্টা করলেই বার করা যেত, সেটাই হেরে বসল মোহনবাগান! এটাই চলতি আই লিগে মোহনবাগানের প্রথম হার। ম্যাচের ৫৫ মিনিট ১০ জনের চেন্নাইকে পেয়েও হারাতে পারল না মোহনবাগান।

ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত জয় দেখে মঙ্গলবার মাঠে নেমেছিলেন মোহনবাগানের ফুটবলাররা। ফলে যে কোনও মূল্যে চেন্নাই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল ক্রোমা-ডিকাদের। আর হয়তো এই কারণে ম্যাচের শুরু থেকেই চাপ নিজেদের উপর নিয়ে নিয়েছিলেন মোহনবাগান ফুটবলাররা।

ম্যাচের পাঁচ মিনিটে নিরীহ একটি বলকে ট্র্যাপ করতে ভুল করেন সৌরভ দাস। সৌরভের এই ভুল থেকেই ম্যাচের ছয় মিনিটে গোল করে চেন্নাই সিটি এফসিকে এগিয়ে দেন ফরাসি স্ট্রাইকার জিন-মিচেল জোয়াকিম। প্রথমার্ধের দশ মিনিটের মধ্যে গোল হজম করায় শুরুতেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে বসেন মোহন ফুটবলাররা। আর এরই সুবাদে একের পর এক মিস পাস করতে থাকেন ডিকা-ক্রোমারা। ফরওয়ার্ড পাস তো দূরের কথা ব্যাকপাস আর স্কোয়ার পাসে তখন চাপটা নিজেদের উপর নিয়ে নিয়েছে মোহনবাগান।

আরও পড়ুন: জয়ে ফিরলেও মন ভরাতে ব্যর্থ লাল-হলুদ

আরও পড়ুন: আইপিএলে ‘না’ মার্শের, বেছে নিলেন কাউন্টিকেই

এরই মধ্যে ম্যাচের ২৭ মিনিটে গোল করে মোহনবাগানকে সমতায় ফিরিয়ে আনতে পারতেন ক্রোমা যদি না বারপোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়াত।

তবে প্রথম গোল পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মোহনবাগানকে। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে চেন্নাইয়ের প্রদীপ মোহনরাজ হাত দিয়ে গোল লাইন সেভ করলে, পেনাল্টি দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি রেফারি সন্তোষ কুমার। শুধু পেনাল্টিই নয়, সোজা লাল কার্ড দেখান মোহনরাজকে। তবে অন্যান্য দিনের মতো এ দিন পেনাল্টি নেননি ডিকা। বরং পেনাল্টি নিতে পাঠান ক্রোমাকেই। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের আগেই ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে মোহনবাগান।

গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাবটি গোল পরিশোধ করার পর গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ২১ হাজার সমর্থক আশা করেছিলেন এ বার হয়তো চেনা পরিচিত ছন্দে দেখা যাবে সুরচন্দ্র-আজহারউদ্দিনদের। কিন্তু সমর্থকদের আশা আর বাস্তবায়িত হল না।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই সেই একই হাল ছেড়ে দেওয়া শরীরীভাষা এবং একাধিক মিস পাসের বহর। এক ঝলকে সেই সময় মোহনবাগানের খেলা দেখলে মনে হবে যেন কোনও ক্লাব স্তরের ফুটবলারদের সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। না আছে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া আর না কোনও সঙ্ঘবদ্ধতা। গোটা মোহনবাগান দলটাই আজ চরম ফ্লপ। শুধু বিদেশিরাই নন, অভিষেক দাস-মনবীর সিংহদের মতো দেশীয় ফুটবলাররাও নিজেদের ফুটবলবোধের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হন এই দিনের ম্যাচে।

ম্যাচের ৭১ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে গোল করে মোহনবাগানের সব আশা শেষ করে দেন চেন্নাইয়ের ভেনিয়ামিন সুমেইকো। এর পর বহু চেষ্টা করেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর নিজেদের হাতে নিতে পারেনি মোহনবাগান। ম্যাচ শেষ হয় ২-১ গোলে।

এ দিন ম্যাচ শেষে চেন্নাই কোচ সৌন্দররাজন বলেন, "আমার কোচিং কেরিয়ারের সেরা ম্যাচ এটা। দশ জনে খেলে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জয় নিঃসন্দেহে বড় ব্যপার। এই জয় আমার কাছে বিশ্বকাপ জেতার সমান।"

মোহনবাগানের খেলা দেখতে মঙ্গলবার গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হারের ফলে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে থাকল মোহনবাগান। ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল।