এ বার সামনে আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ। ঘানার বক্সার আর্নেস্ট আমুজু। যিনি আগেই হুঙ্কার দিয়েছেন, তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষকে মেরে শুইয়ে দেবেন। যে হুঙ্কারের জবাব আনন্দবাজার-কে নয়াদিল্লি থেকে ফোনে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন বিজেন্দ্র সিংহ।  

প্রশ্ন: আপনি শেষ লড়াই লড়েছিলেন অগস্টে। তার পর এত তাড়াতাড়ি আবার একটা বাউট। প্রস্তুতির সময় পেয়েছেন?

বিজেন্দ্র সিংহ: হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আমি প্রায় চার মাস মতো হাতে পেলাম। এটা যথেষ্ট সময়। সাধারণত আমার তৈরি হতে ৮ থেকে ৯ সপ্তাহ লাগে।

প্র: এ বারে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী আপনার চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ জিতে আসছে (২৫টি বাউটে ২৩টি জয়)। আপনার প্রস্তুতি কেমন চলছে?

বিজেন্দ্র: আমি তৈরি যে কোনও চ্যালেঞ্জের জন্য। আমার ওজন ঠিক আছে। স্পারিং পার্টনার ভাল পেয়েছি। প্রস্তুতিতেই মনে হচ্ছে যেন আসল বাউট লড়ছি। আমি এখন দিল্লিতে। এখানে সব রকম ব্যবস্থা আছে। প্রস্তুতিতে কোনও সমস্যা নেই।

প্র: আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী, ঘানার আর্নেস্ট আমুজু তো হুঙ্কার দিয়েছেন, ঘরের মাঠে ওঁ আপনাকে দাঁড়াতে দেবেন না। আপনাকে মেরে শুইয়ে দেবেন। আপনি কী বলছেন?

বিজেন্দ্র: আমি ওর কথাগুলো শুনেছি। আর শুনে আমার হাসি পাচ্ছে। ও আমাকে চেনে না। ওকে ওর মতো কথা বলতে দিন। আমুজু-কে একবার ভারতে আসতে দিন। তার পর বুঝিয়ে দেব, বিজেন্দ্র সিংহ নামটার ওজন কত।

প্র: আমুজু তো এও বলেছেন, আপনার শরীরে আগে আঘাত করে করে আপনাকে কমজোরি করে দেবেন। তার পর ডান হাতি পাঞ্চে শুইয়ে দেবেন রিংয়ে। ওঁর এই স্ট্র্যাটেজির কী জবাব আছে আপনার কাছে?

বিজেন্দ্র: এ সব কথার কী জবাব দেব বলুন তো? আমি শুনেছি ও এ সব বলে চলেছে। আমি ওকে একটা কথা বলতে চাই। দেখো ভাই, আমি বেশি কথা বলার মানুষ নই। কথা বলার চেয়ে রিংয়ে নেমে বিপক্ষকে ঘুসি মেরে শুইয়ে দেওয়ার কাজটা করতেই আমি বেশি ভালবাসি।

প্র: একটা ব্যাপারে ঘানার এই বক্সার কিন্তু আপনার চেয়ে এগিয়ে আছেন। সেটা হল অভিজ্ঞতায়। পেশাদার বক্সিংয়ে ২৫ বাউট লড়েছেন। আপনি সেখানে ৯টা। অনভিজ্ঞতা কি আপনাকে ভোগাতে পারে?

বিজেন্দ্র: আমার তা মনে হয় না। ও হয়তো আমার চেয়ে বেশি বাউট লড়েছে, কিন্তু আমার বেশি রাউন্ড লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে। আমার আগের ম্যাচটার কথাই ধরুন না। আমি দশ রাউন্ড পর্যন্ত লড়ে জিতেছি। আমার সেই ক্ষমতা আছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত, আমুজু দশ রাউন্ড পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে না।

প্র: আপনি নিশ্চয়ই ওঁর লড়াই দেখেছেন?

বিজেন্দ্র: হ্যাঁ। ইউ টিউবে ওর লড়াই দেখে আমরা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছি। এটুকু বলছি, আমি ওর জন্য তৈরি আছি।

প্র: লড়াইয়ের আগে এত উত্তেজনা। এত রক্ত গরম করা কথাবার্তা। আপনি নিজেকে শান্ত রাখেন কী করে? ম্যাচের আগে টেনশন সামলান কী করে?

বিজেন্দ্র: মেডিটেশন। আমাদের দেশ হল ধ্যান, যোগের দেশ। বাবা রামদেব আমাকে এ ব্যাপারে অনেক সাহায্য করেছেন। ধ্যানের সাহায্যে আমি নিজেকে শান্ত রাখি। মনঃসংযোগ ঠিক রাখি। আমার কাছে এটা একটা বড় শক্তি।

প্র: বক্সিংয়ের মতো বডি কনট্যাক্ট স্পোর্টসে যে কোনও সময় চোট লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তার ওপর ম্যাচের আগে এই ধরনের কথা চালাচালি। আপনার স্ত্রী এ সব কী ভাবে নেন? লড়াইয়ের সময় কি নার্ভাস হয়ে পড়েন?

বিজেন্দ্র: আমার স্ত্রী (অর্চনা) কখনও আমার লড়াই দেখে না। ও খুব টেনশনে ভোগে। রিংয়ের সামনে বসে তো নয়ই, এমনকী টিভি-তেও নয়। আমার লড়াই যখন চলে, তখন ও মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করে আমার জন্য।

প্র: আর আপনি কখনও রিংয়ে নামার সময় ভয় পান না? কখনও মনে হয় না, যদি বড় কোনও চোট পেয়ে যাই তা হলে কী হবে?

বিজেন্দ্র: আমি যদি বলি আমি ভয় পাই না, তা হলে সেটা মিথ্যে বলা হবে। আমিও মানুষ। আমারও ভয় আছে। কিন্তু পাশাপাশি আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি। আমার পরিশ্রম, আমার আত্মবিশ্বাস, আমার দক্ষতা দিয়ে এই ভয়কে দূরে ঠেলে দিতে পারব। এবং সেটাই করে থাকি।

প্র: জয়পুরে এই লড়াইয়ের আগে কি কোনও বিশেষ সেলিব্রিটি-কে আমন্ত্রণ জানাতে চান ম্যাচ দেখার জন্য? 

বিজেন্দ্র: দেখুন, আমার কাছে কোনও সেলিব্রিটি আসবেন কি না, এ ব্যাপারটা বড় নয়। এই ছোট শহরের সাধারণ মানুষই আমার শক্তি। এদের জন্যই আমি জিততে চাই। রিংয়ের পাশ থেকে এদের গর্জনই আমার এনার্জি, আমার শক্তি।

সুপার মিডলওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ বিজেন্দ্র সিংহ বনাম আর্নেস্ট আমুজু। ২৩ ডিসেম্বর, শনিবার, সন্ধ্যা ৭.০০। সরাসরি সোনি সিক্স, সোনি টেন ৩ এসডি, এইচডি চ্যানেলে।