দেখুন তো কী অবস্থা!

দূষণের জন্য বিদেশি ক্রিকেটারদের দিল্লির মাঠে মুখোশ পরে খেলতে হচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক!— কলকাতা বিমানবন্দরে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার এ ভাবেই উঠে এল দূষণ প্রসঙ্গ। দেশের বিমানমন্ত্রী অশোক গজপতি রাজু এবং তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় দু’জনেই এ দিন ফিরোজ শাহ কোটলায় চলা ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের প্রসঙ্গ তুললেন। সৌগতবাবুর কথায়, ‘‘অবিলম্বে দূষণ কমানো প্রয়োজন।’’

কলকাতা বিমানবন্দরের প্রধান রানওয়ের পূর্বে অব্যবহৃত ৬৭ একর জমিতে ১৫ মেগাওয়াটের এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি তৈরি হয়েছে। যার উদ্বোধনে এসে বিমানমন্ত্রী রাজু বলেন, ‘‘অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে যাত্রী সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে ভারতে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষণ। সৌর বিদ্যুতের মতো বিভিন্ন প্রকল্প করে এ বার দূষণ আটকাতে হবে।’’

প্রতিটি বিমানবন্দরের এয়ারসাইডে (যেখানে বিমান ওঠানামা করে এবং দাঁড়ায়) বিভিন্ন ধরনের গাড়ি নিয়মিত যাতায়াত করে। এ থেকেও ছড়ায় দূষণ। বিমানবন্দরের এক কর্তা আই এম মূর্তি বলেন, ‘‘আগামী দিনে এয়ারসাইডের সমস্ত গাড়ি ব্যাটারিচালিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’’ রাজুর দাবি, এক মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ তৈরি করতে এক হাজার টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। ফলে ১৫ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ সেই দূষণ অনেকটাই কমাতে সক্ষম হবে। কলকাতার নতুন টার্মিনালের ছাদে ইতিমধ্যেই দু’মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ১৫ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কলকাতা বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি-কে সরাসরি বিক্রি করবেন কর্তৃপক্ষ। সেই খাত থেকে বছরে ১৫ কোটি টাকা রোজগারও হবে কলকাতা বিমানবন্দরের।

কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা অতুল দীক্ষিত জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে ৯০ কোটি টাকা খরচ করে শুরু এই প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে প্রথমে ধন্দ ছিল। মনে করা হয়েছিল,  সৌর বিদ্যুৎ করার জন্য যে চকচকে প্যানেল বসাতে হয়, তার উপরে সূর্যের আলো পড়ে বিচ্ছুরণ হতে পারে। তাতে বিমান ওঠানামার  সময়ে সমস্যা হতে পারে পাইলটদের। কিন্তু সব দিক পরীক্ষা করে সারা  দেশে ৪৫ হাজারটি সৌর প্যানেল বসানোর অনুমতি দেন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের কর্তারা। রাজু বলেন, ‘‘এখন দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে মোট ১৩৫ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। যার মধ্যে কলকাতায় সব থেকে বেশি। আগামী এক বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।’’