আদিবাসীদের তাণ্ডবে শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে রায়গঞ্জ। তার প্রতিবাদে ব্যবসায়ী ও বেসরকারি বাস মালিকদের ডাকা ব্যবসা বন্‌ধ ও বেসরকারি পরিবহণ ধর্মঘটে শনিবার বিপর্যস্ত হল রায়গঞ্জের জনজীবন।

আদিবাসী দুই নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও কয়েকজন দুষ্কৃতী গ্রেফতার না হওয়ায় গত শুক্রবার আদিবাসীদের ১২টি সংগঠনের কয়েক হাজার সদস্য রায়গঞ্জে ভাঙচুর চালান। তাই পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার রায়গঞ্জে ২৪ ঘণ্টা ব্যবসা ও বেসরকারি পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেন রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স ও উত্তর দিনাজপুর জেলা বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এ দিন সকালে বন্‌ধের সমর্থনে শহরের বিদ্রোহী মোড় থেকে শিলিগুড়ি মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। শহরের বেশিরভাগ দোকানপাট ও বাজার বন্ধ ছিল। কোনও বেসরকারি যানবাহন চলাচল করেনি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে শহরের সুপারমার্কেট, পুর বাসস্ট্যান্ড মোড়, দেহশ্রী মোড় ও বিদ্রোহী মোড় এলাকায় কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে আবার কোথাও বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে পথ অবরোধ করেন ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত ছোটগাড়ির চালকেরা।

পুলিশ সুপার অমিতকুমার ভরত রাঠৌর নিজেও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে পথ অবরোধ তোলার চেষ্টা করলে, তাঁকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। সুপারমার্কেট এলাকায় পুলিশ সুপারের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখান ক্ষতিগ্রস্ত ছোটগাড়ির চালকেরা। এরপর থেকেই শহরের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। পরে অবশ্য পুলিশের আশ্বাসে অবশ্য সব জায়গায় অবরোধ ওঠে। অন্য দিকে, আদিবাসীদের তাণ্ডবের জেরে রায়গঞ্জ পুরসভার ১২ লক্ষ টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস। সেই মর্মে পুরসভার তরফে রায়গঞ্জ থানায় অচেনা আদিবাসীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আদিবাসীরা বাসস্ট্যান্ডের একাংশ ভাঙচুর করে ও বিদ্যুত সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এ দিন দুপুরে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ সুপার ও রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক থেণ্ডুপ নামগিয়েল শেরপা। পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কর্মাসের সম্পাদক জয়ন্ত সোম বলেন, ‘‘প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি পেয়ে ব্যবসায়ী ও বাস মালিকরা রবিবার থেকে শহরের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে যা যা করণীয় করবে।’’

জেলাশাসক আয়েশা রানির দাবি, কোনও সরকারি প্রকল্প থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে শহরের আইনশৃঙ্খলা যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য পুলিশকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।