কেব্‌ল টিভির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিবাদ এলাকারই অন্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তার জেরে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলাও করেছিল পুলিশ। সেই মামলায় জামিনের আবেদন নাকচ হতেই বালির নিহত তৃণমূল নেতা তপন দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্তকে গ্রেফতার করল নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ।

শনিবার ভোরে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেই তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাওড়া সিটি পুলিশের মহিলা থানায়। এ দিন প্রতিমাদেবীকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

‘আক্রান্ত আমরা’র সদস্য প্রতিমাদেবীর গ্রেফতারি নিয়ে দিনভর ধুন্ধুমার চলল হাওড়া আদালত চত্বরে। কোর্ট লক-আপ থেকে ৫০ ফুট দূরের আদালতে আনতে পুলিশে মুড়ে দেওয়া হয় চত্বর। আদালতে আনার পথে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রতিমাদেবী। তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা ভর্তির প্রয়োজন নেই বলে ফিরিয়ে দেন।

শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘‘প্রতিমা দত্ত সুপ্রিম কোর্টে জিতেছেন। গণতন্ত্রের পক্ষে লড়ছেন বলে ফন্দিফিকির তৈরি করে এ সব করা হয়েছে। এটা নিন্দনীয়।’’ আবার পুরো ঘটনা সাজানো ও পূর্ব-পরিকল্পিত বলে দাবি করে হাওড়া সিটি পুলিশের কাছে ডেপুটেশনও দেন ‘আক্রান্ত আমরা’র প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:অভিনেতার নামে ভুয়ো প্রোফাইল, ধৃত যুবক

পুলিশের দাবি, দু’মাস আগে প্রতিমাদেবীকে ৪১এ (১) ধারায় নোটিস (যে অভিযোগে শাস্তি সাত বছরের জেল বা তার থেকে কম, তাতে পুলিশ জেরার জন্য অভিযুক্তকে এই নোটিস পাঠায়) পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিমাদেবী থানায় আসেননি। বিষয়টি আদালতে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রতিমাদেবীদের কেব্‌ল টিভির ব্যবসা বহু দিনের। গত ফেব্রুয়ারিতে এলাকারই চার বাসিন্দা মিলে পৃথক ভাবে ওই ব্যবসা শুরু করেন। তাঁদেরই এক জন অসিত দত্তের অভিযোগ, ব্যবসা শুরুর পর থেকেই প্রতিমাদেবী হুমকি দিচ্ছিলেন। রাস্তায় তাঁকে প্রতিমাদেবী ও তাঁর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা মারধর করেন বলেও অভিযোগ। ১০ মার্চ নিশ্চিন্দা থানায় অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ীরা। তাঁরা পুলিশকে জানান, পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বলেছেন প্রতিমাদেবী। না হলে খুনের হুমকিও দিয়েছেন। ওই ব্যবসায়ীরা কেব্‌ল সংযোগের তার চুরির অভিযোগও এনেছেন প্রতিমাদেবীর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, প্রতিমাদেবীর বাড়ি থেকেই ওই কাটা তার মিলেছে।

পুলিশ প্রতিমাদেবীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৪৭/ ৩৪১/ ৩৭৯/ ৪২৭/ ৫০৬ ও ৩৪ নম্বর ধারায় মামলা করে। এর মধ্যে ৩৭৯ ও ৫০৬, অর্থাৎ চুরি ও খুনের হুমকি জামিন-অযোগ্য। প্রতিমাদেবীও পাল্টা অভিযোগ জানান। পুলিশ দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই মামলা করে। এর পরেই ওই ব্যবসায়ীরা হাওড়া আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। কিন্তু প্রতিমাদেবী তা করেননি। এ দিন প্রতিমাদেবীর দেওর দীপক দত্ত বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টে মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বৌদি ওই অভিযোগটি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সময় পাননি। তবে ১৫ দিন আগে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল।’’ গত শুক্রবার হাওড়া আদালত সেই আবেদন খারিজ করে।

প্রিয়াঙ্কা এ দিন বলেন, ‘‘আমাদের কেব্‌ল ব্যবসা তুলে দেওয়ার জন্য তৃণমূলের আশ্রিত ওই জমির দালালেরা হুমকি দিচ্ছিল। ওঁরা মাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘বাবার খুনের তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার মামলার শুনানি রয়েছে ১৬ অগস্ট। সেখানে যাতে মা থাকতে না পারেন, সে জন্যই এই চক্রান্ত।’’

তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, ‘‘চক্রান্তের অভিযোগ ঠিক নয়। কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, পুলিশ বলতে পারবে। এর পিছনে কোনও ঘটনা আছে কি না, তা আগে জানতে হবে।’’