বিভিন্ন দফতরের ‘কোর পরিকল্পনা’ খাতে বকেয়া ২৫০ কোটি টাকা। আর নানা প্রকল্পের কাজ ধরলে সব মিলিয়ে পাওনা প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। রাজ্য সরকারের কাছে পাওনা আদায়ের দাবিতে গোটা পুরসভার মেয়র পরিষদকে নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে দরবার করলেন শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। সেই সঙ্গেই জানিয়ে দিলেন, টাকা আদায়ের জন্য এই শেষ তাঁদের মন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়া। এর পরে দফতরের সামনে অনশন বা ধর্নায় বসবেন তাঁরা।

শিলিগুড়ি পুরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত কয়েক বছরে দফায় দফায় মহাকরণ বা বিধানসভায় এসে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে পাওনা মেটানোর আলোচনা করেছেন অশোকবাবু। বিধায়ক হওয়ার পরে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও। কিন্তু বারংবার দরবার করেও শিলিগুড়ি পুরসভার পাওনা রাজ্য সরকার মেটায়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এই মুহূর্তে শিলিগুড়িই রাজ্যের একমাত্র বাম পরিচালিত পুরসভা। যে তৃণমূলের রাজ্য সরকার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বঞ্চনার অভিযোগ তোলে, তারা শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে একই কাজ করছে বলে অশোকবাবুদের অভিযোগ। দফতর ধরে ধরে পাওনার অঙ্ক মন্ত্রীকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই বুধবার মেয়র পারিষদদের সঙ্গে করে মহাকরণে গিয়েছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র। মন্ত্রীর পরামর্শে পরে গিয়েছিলেন বিধাননগরে পুর সচিবের কাছেও।

পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরে অশোকবাবু এ দিন বলেন, ‘‘বিভিন্ন খাতে রাজ্যের কাছ থেকে যে টাকা পাওনা আছে, সেটা পুরসভার সাংবিধানিক অধিকার। বারবার হিসেব দিয়েও বকেয়া মেটানো হচ্ছে না। একমাত্র বাম পরিচালিত পুরসভা আমাদের, এটাই কি আমাদের অপরাধ?’’ বহু বার আর্জি-অনুরোধেও কাজ না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে অশোকবাবুর মন্তব্য, ‘‘এর পরে আর কী করব? মন্ত্রীকে বলে দিয়েছি, টাকার জন্য এর পরে আসব না। এ বার পুর দফতরের সামনে অনশন বা ধর্নায় বসতে হবে।’’ পুরমন্ত্রী ফিরহাদের বক্তব্য, ‘‘ওঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। পুরসচিবের সঙ্গে দেখা করে পাওনার হিসাব নিয়ে কথা বলে নিতে অনুরোধ করেছি।’’