রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পঞ্চদশ অধ্যক্ষ স্বামী আত্মস্থানন্দের দেহাবসান হয়েছে। রবিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান হাসপাতালে প্রয়াত হন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। আজ, সোমবার রাত সাড়ে ন’টায় বেলুড় মঠের গঙ্গাতীরে তাঁর অন্তিম সংস্কার হবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মাদার টেরিজার পরে এই প্রথম রামকৃষ্ণ মিশনের মতো কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্তিম সংস্কার হতে চলেছে।

মূত্রনালিতে সংক্রমণ, বার্ধক্যের নানান সমস্যা নিয়ে ২০১৫-র ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ছিলেন স্বামী আত্মস্থানন্দ। ১৬ জুন তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। এ দিন দুপুরে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে শোকবার্তা পাঠান তিনি। প্রেসিডেন্ট মহারাজকে দেখার জন্য এর আগে কয়েক বার সেবা প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বামী আত্মস্থানন্দ তাঁর গুরু। গুরুর প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন করেন তিনিও।

এ দিন প্রয়াণ-সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত। চলে আসেন মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দ, ম্যানেজার মহারাজ স্বামী গিরিশানন্দ এবং অন্যেরা। মন্ত্রী ও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সুব্রত বক্সী, দেবাশিস কুমারও হাসপাতালে যান। রাতে অ্যাম্বুল্যান্সে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বেলুড় মঠে।

মঠের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিতরে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ, সারদাদেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতির সামনে রাখা হয় মরদেহ। শুরু হয় মন্ত্রোচ্চারণ। ভক্তেরা মালা, শ্বেতপদ্ম নিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাতভর। আজ, সোমবার রাত পর্যন্ত শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ মিলবে। অন্তিম সংস্কারের পরে, রাতে বেলুড় মঠ থেকে বিশেষ বাস পরিষেবা দেবে পরিবহণ দফতর।

১৯১৯-এর ২১ মে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের সাবাজপুরে জন্ম সত্যকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের। কলেজ-জীবনে তিনি যুক্ত হন দিনাজপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমের সঙ্গে। পরে বেলুড় মঠে যোগদান। ’৪৯-এর ১ মার্চ স্বামী বিজ্ঞানানন্দজির কাছে মন্ত্রদীক্ষা নিয়ে সত্যকৃষ্ণই হন স্বামী আত্মস্থানন্দ। ২০০৭ সালে মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ হন তিনি।