বিধানসভা ভোটের আগে নারদ নিউজ সংস্থা ঘুষ-কাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করার পরে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করেছিল বিজেপি-ই। তার পর থেকে যত বার নারদ ওই বিষয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে, প্রতি বারই সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। কিন্তু নারদ-কাণ্ডের তদন্তভার কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআইকে দেওয়ার পর থেকে বামেরা লাগাতার রাস্তায় নামলেও বিজেপি-কে দেখা যাচ্ছে না ময়দানে। শেষমেশ তাদের সিদ্ধান্ত— হাইকোর্টের নির্দেশের পাঁচ দিন পরে কাল, বুধবার তারা নারদ-কাণ্ড নিয়ে পথে নামবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারি এবং পদত্যাগের দাবিতে কলেজ স্কোয়্যার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকেও একই আর্জি জানাবে।

কিছু দিন ধরেই রাজ্যের বিরোধী পরিসরে থাবা বসানোর চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। হাতে গরম নারদ-হাতিয়ার তারা সঙ্গে সঙ্গেই কাজে লাগাবে, এমন প্রত্যাশা রাজনৈতিক শিবিরে ছিলই। কিন্তু বাস্তবে তা হল না কেন?

বিজেপি-র একাংশের ব্যাখ্যা, তারা সিবিআই বা আদালতকে প্রভাবিত করছে না, এটা বোঝাতেই এই পথে হাঁটা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, নারদ-কাণ্ড নিয়ে আদালতের রায় বিজেপি আগে থেকেই জানত। সারদা, রোজভ্যালির মামলাতেও বিজেপি-র বিরুদ্ধে সিবিআইকে ‘ব্যবহার’ করার অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তাঁর ওই অভিযোগগুলি যাতে জনমানসে গ্রহণযোগ্যতা না পায়, তার জন্যই নারদে ধীরে চলছে বিজেপি। জাতীয় রাজনীতি এবং রাজ্যসভার অঙ্ক মাথায় রেখে তৃণমূলের সঙ্গে ফের দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বোঝাপড়া হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে দলের সংশয়ও এই ধীরে চলার নেপথ্যে কাজ করেছে বলে দলের একটি সূত্রের বক্তব্য।

বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য প্রকাশ্যে এমন ব্যাখ্যা মানছেন না। তাঁদের বক্তব্য, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন টেট-কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সল্টলেকে মিছিল করে এক বার মানুষের অসুবিধা করা হয়েছে। পরীক্ষার মরসুমে মাইক বাজানোতেও নিষেধাজ্ঞা হয়েছে। তাই ভেবেচিন্তে রাস্তায় নামার কর্মসূচি নিতে হচ্ছে।

দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও এ দিন বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, নারদ-কাণ্ডে মমতার মন্তব্যে তাঁরা বিচলিত নন। বীরভূমের নলহাটিতে তিনি সোমবার বলেন, ‘‘আদালত নারদ-কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআইকে দেবে, এটা বলতে ম্যাজিক জানার দরকার নেই। সাধারণ বুদ্ধি থাকলেই এটা জানা যায়। অথচ দিদি অবাক হয়ে গিয়েছেন! প্রকাশ্যে টাকা চুরি করেছো, তোমার পুলিশ কিছু করছে না বলে আদালত ছেড়ে দেবে নাকি?’’

দিলীপবাবুর হুঁশিয়ারি, ‘‘দিদির সাংসদ, বিধায়কেরা সব গ্রেফতার হবেন। কেউ কটক, কেউ ভুবনেশ্বর, কেউ পাটনা জেলে থাকবেন। এখানে কাউকে রাখবে না সিবিআই। পরে উনি যেন না বলেন, দিলীপ ঘোষ কী করে জানল!’’