নারদ কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিবিআই। বুধবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে পৌঁছন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে জিজ্ঞাসাবাদ। পরে মদন বলেন, ‘‘আমাকে যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, আমি তার জবাব দিয়েছি। প্রয়োজন হলে আবার ডাকবে বলেছে। আমি আবার যাব।’’ এ দিন মদনের বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। সিবিআই সূত্রে খবর— ম্যাথু স্যামুয়েলের কাছ থেকে নেওয়া টাকা তিনি কী ভাবে খরচ করেছেন, এ দিন মদনবাবু সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও জবাব দেননি। এই টাকার হিসেব তিনি পরে দেবেন বলে সিবিআইকে জানিয়েছেন। সিবিআইয়ের এক কর্তা জানিয়েছেন, এ জন্য খুব শীঘ্রই আবার মদনবাবুকে তাঁরা তলব করবেন।

নারদ স্টিং অপারেশনে সম্পাদিত ফুটেজে সাত সকালে ঘুম চোখে বিছানায় শুয়ে টাকার বান্ডিল নিতে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন এই মন্ত্রীকে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নারদে অন্যতম অভিযুক্ত পুলিশ কর্তা এস এম এইচ মির্জা মারফত তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নারদ নিউজের ছদ্মবেশী সাংবাদিক ম্যাথু। পুলিশ কর্তার দূর সম্পর্কের ভাই টাইগার মির্জার সঙ্গে মদনের ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন ম্যাথু।

তদন্তকারীদের কথায়— শুধু ম্যাথু নয়, টাইগার ও পুলিশ কর্তা মির্জার বয়ানও নেওয়া হয়েছে। সিবিআই সূত্রের খবর, নারদের অসম্পাদিত ফুটেজে ম্যাথুর সঙ্গে চা খেতে খেতে প্রাক্তন মন্ত্রী নানা কথা বলেছেন বলে দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ম্যাথুকে পরিবহণ দফতর মারফত যে কোনও ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। মন্ত্রীর বিছানা থেকে অন্য এক জন টাকার বান্ডিল তুলে নিয়ে আলমারিতে রাখছেন, সেই ছবিও অসম্পাদিত ফুটেজে দেখা গিয়েছে। মদনবাবুর ওই অনুচরকেও পরবর্তী পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।