ঋণ মকুবের জন্য দিল্লির দরবারে রাজ্যের দাবি দীর্ঘ দশ বছরের। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্যে এক বারই শিকে ছিঁড়েছিল দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে। মুখ্যমন্ত্রী তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আর্জিতে সাড়া দিয়ে রাজ্যের জন্য ৮৭৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নের জন্য সেই বিশেষ প্যাকেজ থেকে এখনও রাজ্যের প্রাপ্য ২৩৩০ কোটি। কিন্তু সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকার নবান্নকে জানিয়ে দিয়েছে, ওই টাকা আর দেওয়া সম্ভব নয়।

বাধ্য হয়েই ওই খরচ মেটানোর কথা ভাবছেন নবান্নের কর্তারা। কিন্তু কেন্দ্রের এমন অবস্থানে ক্ষুব্ধ  রাজ্যের বক্তব্য, সাম্প্রতিক বিরোধের কারণেই ওই টাকা এ ভাবে আটকে দিয়েছে কেন্দ্র। যদিও কেন্দ্রীয় কর্তারা রাজ্যের এই বক্তব্য মানতে নারাজ।

আরও পড়ুন: এইচআইভির ভুল রিপোর্ট, বিপন্ন বধূ

২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে বাম আমলের ঋণের বোঝা কমাতে চাপ দেন মমতা। দিল্লি তা না মানলেও তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় রাজ্যের জন্য ঘুরপথে একটি আর্থিক প্যাকেজ মঞ্জুর করেন। পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়া ১১টি জেলার বিশেষ উন্নয়নের জন্য ‘ব্যাকওয়ার্ড রিজিয়ন গ্র্যান্ট ফান্ড’ (বিআরজিএফ) জন্য বিশেষ বিআরজিএফ প্যাকেজে ৮৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দিল্লি। সেই টাকা আসার পরেই চিহ্নিত জেলাগুলিতে মাল্টিসুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কিষাণ মান্ডি, আইটিআই-পলিটেকনিক, নতুন নতুন অজস্র রাস্তা তৈরির কাজ হাত দেয় সরকার।

কিন্তু ২৩৩০ কোটি টাকার কাজ বাকি থাকতেই মোদী সরকার আর কিছু দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্র কেন টাকা দেবে না? অর্থ মন্ত্রকের এক কর্তা জানান, দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যোজনা কমিশনের অধীনে প্রকল্পটি চলছিল। পশ্চিমবঙ্গ সময় মতো টাকা খরচ করতে পারেনি। তার উপরে মোদীর আমলে যোজনা কমিশন গুটিয়ে নীতি আয়োগ তৈরি হয়েছে। শেষ হয়ে গিয়েছে দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাও। ফলে তখনকার সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তার টাকা কী ভাবে দেওয়া হবে? ওই কেন্দ্রীয় কর্তার দাবি, ‘‘যারা প্রকল্পের কাজ সময়ে শেষ করেছে, তারা পুরো টাকাই পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পারেনি। তাই বাকি টাকা পাবে না।’’