স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাতে কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমনে তৎপর হতে হয়েছে সরকারকে। বিজেপি-শাসিত রাজস্থানে কৃষক বিক্ষোভের জেরে ঋণ মকুবের ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। দেশের নানা প্রান্তেই কৃষিক্ষেত্র থেকে যখন ক্ষোভের আঁচ আসছে, সেই সময়ে তাঁর রাজ্যের কৃষকদের দরাজ প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ দেশের মধ্যে বাংলাতেই ভাল থাকেন চাষিরা। বর্ধমানে মঙ্গলবার মাটি উৎসবের মঞ্চে মমতা বলেন, ‘‘ভারতবর্ষের যে কোনও কৃষকের থেকে আমাদের কৃষকেরা গর্বে থাকেন, ভাল থাকেন, সুস্থ থাকেন। তাঁরা শুধু দেশের নয়, পৃথিবীতে এক নম্বর, তা প্রমাণ হবে!” বর্ধমান জেলাকেই রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ বলা হয়ে এসেছে দীর্ঘ কাল। সেই বর্ধমানের মাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী নানা প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে বোঝাতে চেয়েছেন, রাজ্য সরকার কী ভাবে চাষিদের পাশে রয়েছে।

পঞ্চায়েত ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর কৃষক-গর্বকে অবশ্য নস্যাৎ করছে বিরোধীরা। কৃষকসভার রাজ্য সম্পাদক তথা বর্ধমানের সিপিএম নেতা অমল হালদারের অভিযোগ, “গত এক মাসে পূর্ব বর্ধমানেই ফসলের দাম না পেয়ে পাঁচ জন আত্মঘাতী হয়েছেন। আলুর দাম নেই, আমনের উৎপাদন মার খেয়েছে। রাজ্যের চাষিরা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।” আর বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘‘গোটা রাজ্যকে মাটি করে উনি মাটি উৎসব করছেন! তার চেয়ে উনি বরং নজর দিন যাতে আর কোনও কৃষক আত্মহত্যা না করেন।’’

আরও পড়ুন: ভাঙড়ে ফের গুলি-বোমা, আরাবুলের দিকে আঙুল

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ লক্ষ কৃষকের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক চাষিদের ঋণ দিতে চায় না, তাই সরকার ৭৯ লক্ষ চাষিকে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড দিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘১৮৬টি কিষাণ বাজার, বিজ্ঞানসম্মত চাষের জন্য বর্ধমান-সহ তিন জায়গায় কৃষি মহাবিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছে। এ বছর ৪৫ লক্ষ চাষির জন্য ৬২৬ কোটি টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষিজমির খাজনাও মকুব করে দেওয়া হয়েছে।” সিঙ্গুর-প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘কৃষিজমি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ওখানে। আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। সোনার ধান ফলছে সেখানে, এটা আমাদের গর্ব।’’

অমলবাবুর অবশ্য পাল্টা দাবি, কেরলে আমন ধানের সহায়ক মূল্য ২৩০০ টাকা। আমাদের রাজ্য দিচ্ছে ১৫৫০ টাকা। আলু নিয়েও চাষি ও হিমঘর মালিকেরা বিপাকে পড়েছেন বলেও বিরোধীদের দাবি। পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সুনীল ঘোষের বক্তব্য, “আলুর সহায়ক মূল্য ঘোষণা না করলে চাষিরা খুব সমস্যায় পড়বেন।”

তবে চাষির আত্মহত্যার অভিযোগ উড়িয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গত ছ’বছরে কৃষকদের আয় বছরে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকারও বেশি বেড়েছে।” মাটি উৎসবে এ দিন রাজ্যের ১০৩ জনকে ‘কৃষকরত্ন’ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মান নেওয়ার পরে পূর্ব মেদিনীপুরের রাধেশ্যাম ক্যুইলা, হুগলির জগবন্ধু পালেরা বলেন, “আগের চেয়ে চাষের অবস্থা ভাল হয়েছে। সরকার আর একটু সাহায্য করলে বিপ্লব ঘটে যাবে!”