দাসপুর থানায় দায়ের হওয়া প্রতারণা-মামলার তদন্তে ভিন্‌ রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে সিআইডি গোয়েন্দাদের একাধিক দল। এই মামলায় যাঁর নাম জড়ানোয় রাজ্যে তোলপাড়, সেই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষও এখন ঘটনাচক্রে ভিন্‌ রাজ্যে। ফলে তাঁর খোঁজেই এই অভিযান কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে পুলিশের অন্দরে। সিআইডি সূত্রে গোয়েন্দাদের যাওয়ার কথা স্বীকার করা হলেও তাঁদের মূল লক্ষ্য ভারতী, এমন কথা সরাসরি বলা হচ্ছে না।

মাদুরদহের ফ্ল্যাট থেকে প্রচুর সরকারি ফাইল বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি। তারা জানিয়েছে, তার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন সরকারি নথি ছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের এবং চাকরির পুলিশি শংসাপত্র (ভেরিফিকেশন রোল) রয়েছে। যা কারও বা়ড়িতে থাকার কথা নয়। ভারতী ঘোষের নাম না করে সিআইডির দাবি, ফ্ল্যাটটি এক জন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসারের। সিআইডি সূত্রের খবর, ওই ফ্ল্যাটে প্রচুর দামি মদের বোতল মিলেছে। সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করে আনা হয়েছে। মোট ৫৭টি মদের বোতল (৩৯ লিটার) বাজেয়াপ্তের খবর রাজ্য আবগারি দফতরকে জানানো হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ‘‘এসপি থাকার সময় ভারতীদেবীকে অন্যায় কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন তাঁর বিরুদ্ধেই অন্যায় হচ্ছে। তাঁর ফ্ল্যাট থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া জিনিসপত্র সিআইডিই যে রাখেনি তার নিশ্চয়তা কী?’’ সিআইডির পাল্টা দাবি, এ দিন তল্লাশির ভিডিওগ্রাফি হয়েছে। তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতিতে তদন্তকারীদের তল্লাশি করে ফ্ল্যাটে ঢোকানো হয়েছে। পাশাপাশি, বুধবার রাতে এক ফল ব্যবসায়ীর অভিযোগে ভারতীদেবীর বিরুদ্ধে ৪৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের পৃথক মামলা রুজু হয়। বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘‘বিষয়টি সিআইডি-কে জানানো হয়েছে।’’

নাকতলার বাড়িতে তল্লাশির পরে ভারতীর স্বামী এম এ ভি রাজুকে তলব করেছে সিআইডি। তাঁর আইনজীবী এ দিন বলেন, ‘‘উনি অসুস্থ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা সাত দিন সময় চেয়েছি।’’ সিআইডি সূত্রের খবর, ফের তলবের চিঠি পাঠানো হতে পারে রাজুকে। এ নিয়ে এ দিন তোপ দেগেছেন ভারতী। বলেছেন, ‘‘আমার স্বামী সাধারণ ও সৎ মানুষ। সিআইডির প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণে মানসিক ও শারীরিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন।’’