কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পে এখন দেশের ছোট ছোট বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা চালু হচ্ছে। সেই প্রকল্পে খুব শীঘ্রই দুর্গাপুর ও কোচবিহার থেকে বিমান পরিষেবা শুরু হবে বলে কলকাতায় এসে আশ্বাস দিয়ে গেলেন বিমানমন্ত্রী অশোক গজপতি রাজু।

‘উড়ান’ প্রকল্পে এমন সব বিমানবন্দর বেছে নেওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে হয় এর আগে কখনও বিমান ওড়েনি অথবা সপ্তাহে বড়জোর তিনটি উড়ান পরিষেবা চালু রয়েছে। এই ধরনের ছোট বিমানবন্দর থেকে উড়ান চালানোর জন্য ভর্তুকিও দেবে বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ঠিক হয়েছে, যে-রাজ্যের বিমানবন্দর থেকে উড়ান শুরু হবে, ভর্তুকির ২০ শতাংশ দেবে সেখানকার সরকার। বাকি ৮০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র।

বিমানমন্ত্রী মঙ্গলবার কলকাতায় বলেন, ‘‘রাজনৈতিক বিভেদ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ একেবারে প্রথম দিকে আমাদের সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি করেছে। ঠিক হয়েছে, এই রাজ্যের দুর্গাপুর ও কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে ছোট বিমান চালানো হবে। এই দু’টি বিমানবন্দর পুরোপুরি তৈরি।’’

ভারতে সস্তার উড়ানের প্রবক্তা, ক্যাপ্টেন গোপীনাথের হাতে তৈরি ডেকান এই দুই বিমানবন্দর থেকে উড়ান চালানোর জন্য টেন্ডার বা দরপত্র দেয়। বরাতও পায় তারা। কিন্তু বিদেশ থেকে ছোট বিমান আনতে আনতেই নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যায়। এই বছরের জুলাইয়ে সেই পরিষেবা চালু করার কথা ছিল। এর পরেও কি ডেকানকে ওই উড়ান চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে?

‘‘আমরা চাই, উড়ান চালু হোক। ডেকান তো দু’টি বিমান নিয়ে এসেছে। ওদের আরও কিছু সময় দিতে হবে,’’ বলেন বিমানমন্ত্রী। ওই দু’টির মধ্যে একটি বিমান গুজরাতে এবং একটি পশ্চিমবঙ্গে চালানোর কথা। কলকাতা থেকে দুর্গাপুর, কোচবিহার ছাড়াও বাগডোগরা, বার্নপুর, জামশেদপুর, রৌরকেলায় এই উড়ান পরিষেবা চালু করার কথা।

রাজু জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মধ্যে শুধু ৭১টি বিমানবন্দর থেকে বিমান ওঠানামা করছিল। উড়ান প্রকল্পে আরও ৮০টি বিমানবন্দরকে ঢোকানো হয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি বিমানবন্দর থেকে ইতিমধ্যেই বিমান পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, কিছু রুটে সেই পরিষেবা এতটাই লাভজনক হয়ে উঠেছে যে, ভর্তুকি লাগবে না বলেও বিমান সংস্থা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে।