স্কুল চলছে রমরমিয়ে। ঘরে ঘরে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকেরা। তবে, প্রধান শিক্ষক স্কুলে নেই। তিনি তখন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় অর্ধচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছেন স্কুলের সামনের রাস্তায়। যা দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছল সংবাদ মাধ্যম। পৌঁছলেন পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা। এমনকী, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক।

সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুরের বেলদার পোক্তপুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের নাম যুগলকিশোর দলুই। তিনি ওই বিদ্যালয়েরই প্রধান শিক্ষক। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) আমিনুল আহসান জানিয়েছেন, অভিযোগ সত্যি প্রমাণ হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ, তখন ক্লাস চলছিল। বাইরে হইচই আর জটলা দেখে কয়েক জন শিক্ষক বেরিয়ে আসেন। জটলা সরিয়ে এগোতেই তাজ্জব হয়ে যান তাঁরা। স্কুলের বাইরে মাটিতে উল্টে পড়ে রয়েছেন তাঁদেরই প্রধান শিক্ষক যুগলকিশোর। তিনি এতটাই নেশাগ্রস্ত যে উঠে দাঁড়াতে তো পারছেনই না, উপরন্তু সেখানে শুয়ে বেসামাল কথাবার্তাও বলে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: নারদ প্রসঙ্গ উঠতেই মাইক বন্ধ করে দিলেন মালা, পুরসভায় ধুন্ধুমার

প্রধান শিক্ষকের এ রকম কাণ্ডের কথা শুনে বেরিয়ে আসে ছাত্ররাও। ভিড় জমে যায় তাঁকে ঘিরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। ক্যামেরা দেখে প্রথমে তিনি বলেন, ‘‘তুলুন কত ছবি তুলবেন তুলুন।’’ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি এ রকম রোজই করেন কি না। উত্তরে প্রধান শিক্ষকের সহাস্য মন্তব্য, ‘‘হ্যাঁ, ১০০ শতাংশ।’’ অর্থাৎ রোজই তিনি মদ্যপ অবস্থাতেই স্কুলে আসেন। কী ভাবে তিনি এখানে পৌঁছলেন? ওই প্রধান শিক্ষকই উত্তর দিলেন। জানালেন, নেশা করতে তিনি খগড়পুরে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিচত এক যুবক সেখান থেকে তাঁকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে যান। কিন্তু হেঁটে আর স্কুলে ঢুকতে পারেননি। স্কুলের সামনেই পড়ে যান।

স্কুলের এক শিক্ষক জানান, ২০০৩ সালে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান তিনি। আর দেড় বছরের মতো তাঁর চাকরি রয়েছে। বেশির ভাগ দিনই তিনি স্কুলে আসেন না। আর এলে মদ্যপ অবস্থাতেই আসেন। প্রধান শিক্ষক হিসাবে স্কুলের প্রায় কোনও দায়িত্বই নেন না।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ওই স্কুলের বাকি শিক্ষকেরা এবং পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক যদি এ রকম হয় তাহলে পড়ুয়াদের মধ্যে কী বার্তা যাবে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।