জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন বিলের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। প্রায় ২.৭৭ লক্ষ সদস্যের এই সংগঠন দেশের সবথেকে বড় চিকিৎসক সংগঠন। এর ফলে দেশ জুড়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে আপৎকালীন পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ে। ব্যাহত হয় সরকারি হাসপাতালের কাজও।

দিল্লিতে সরকারি হাসপাতালে কাজ চালু থাকলেও অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে রুগিরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। লখনউ, জালন্ধর, পটনা-সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ দেখান চিকিৎসকেরা। কেরলে প্রায় ৩০০০ চিকিৎসক রাজ্যপালের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেন। কর্নাটকেও ছবিটি ছিল কম-বেশি এক।
সরকার সংসদে পিছু হটলে দুপুর তিনটের পর কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হয়। আইএমএ সভাপতি রবি ওয়াংখেড়ে বলেন, ‘‘গরিব-বিরোধী, আমজনতার বিরোধী ওই বিলের বিরুদ্ধে আজকের প্রতিবাদ সফল হয়েছে।’’

এ রাজ্যে কর্মবিরতি চলাকালীন সরকারি হাসপাতালগুলির আউটডোর খোলা থাকবে বলেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালের আউটডোরের পাশাপাশি একাধিক সরকারি হাসপাতালের আউটডোরেও দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। ফলে দূরদুরান্ত থেকে আসা অসুস্থ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেই দিশেহারা হয়ে ছুটে গিয়েছেন সুপারের অফিসে। কেউ-কেউ আবার সংবাদপত্রের দফতরে ফোন করে আউটডোর কত দিন বন্ধ থাকবে জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে আরজিকর ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এই অভিযোগ এসেছে।

একাধিক রোগীর বাড়ির লোকের অভিযোগ, সকাল সাড়ে আটটা থেকে তাঁরা আউটডোরে এসেছিলেন, কিন্তু বেলা ১১টা-সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনও চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। পরেও হাতেগোনা ডাক্তার এসেছেন।

আইএমএ-র রাজ্য শাখার নেতারা জানান, চিকিৎসকেরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই কর্মবিরতিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে চিকিৎসা পরিষেবা যতটা সম্ভব নির্বিঘ্নে চালানোর চেষ্টা হয়েছে। রাজ্য শাখার সম্পাদক শান্তনু সেনের কথায়, ‘‘রোগীদের ১০ শতাংশও যদি আউটডোরে এসে সমস্যায় পড়ে থাকেন তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মেডিক্যাল পঠনপাঠনের স্বার্থে ও সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য এই প্রতিবাদ জরুরি ছিল।’’ এ দিন চিকিৎসকেরা কালো ব্যাজ পরে ইমার্জেন্সিতে রোগী দেখেছেন। দুপুরে মেডিক্যাল কলেজ থেকে ওয়েলিংটনে বিধানচন্দ্র রায়ের বাড়ি পর্যন্ত একটি মিছিলও বের হয়।

কর্মবিরতির জেরে চিকিৎসকেরা তাঁদের দায়বদ্ধতা অমান্য করেছেন বলে অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টে মঙ্গলবার জনস্বার্থে মামলা দায়ের করেছে স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন। হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের আদালতে আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।