মৌলিক অধিকারের বিষয়ে আদালতে যেতে হলে আবেদনকারীকে বাদী বা বিবাদী পক্ষ হতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই বলে মনে করতেন তিনি। সেই ধারণা থেকেই তিনি জনস্বার্থ মামলার প্রবর্তন করেন। এ দেশে জনস্বার্থ মামলার প্রবক্তা, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি প্রফুল্লচন্দ্র নটবরলাল (পিএন) ভগবতী প্রয়াত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিল্লির বাড়িতে মারা যান বিচারপতি ভগবতী। বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তাঁর স্ত্রী এবং তিন মেয়ে রয়েছেন। ভগবতী ১৯৮৫ সালের জুলাই থেকে ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ১৯৭৩ সালে গুজরাত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছেড়ে সুপ্রিম কোর্টে যোগ দেন তিনি।

জনস্বার্থ মামলার প্রবর্তন ছাড়াও তাঁর বিভিন্ন রায়ে বিচারপতি ভগবতী বন্দিদের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রুমা পাল জানান, মানবিধাকার রক্ষার জন্য সারাজীবন সচেষ্ট ছিলেন বিচারপতি ভগবতী। জরুরি অবস্থাকে সমর্থন করে তিনি যে ঠিক করেননি, পরে তা বুঝেছিলেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তা নিয়ে অনুতাপও করেছেন। পরবর্তী কালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের জন্য প্রাণপাত করেছেন ভগবতী।

বিচারপতি ভগবতীকে এ দেশে জনস্বার্থ মামলার পথিকৃৎ বলে চিহ্নিত করেছেন বিচারপতি পাল। তিনি মনে করেন, বিচারপতিদের নীতি-আদর্শ কী হবে, সেই বিষয়েও বিচারপতি ভগবতীর কাজ অমর হয়ে থাকবে। ৩২টি দেশের বিচারপতিদের নিয়ে যে-‘ব্যাঙ্গালোর প্রিন্সিপল্‌স’ তৈরি হয়েছিল, তাতে বিচারপতি পি এন ভগবতীর অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই বলেও মন্তব্য করেছেন বিচারপতি পাল।