রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীরা রাজনৈতিক হিংসার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা৷ শনিবার লাটাগুড়িতে তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করা উচিত৷

শুক্রবার সন্ধ্যায় লাটাগুড়িতে আসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ এখানকার একটি বেসরকারি রিসর্টে রাতে দলের উত্তরবঙ্গের ৬ জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি৷ বিজেপি সূত্রের খবর, বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির সংগঠন এই মুহূর্তে কতটা শক্তিশালী তা নিয়ে আলোচনা হয়৷ পাশাপাশি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, নেতাদের থেকে তাও জানতে চান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে বলে ওই বৈঠকেই দলের নেতারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন৷

বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় তিনি যে অসন্তুষ্ট তা এ দিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট ৷ লাটাগুড়ি থেকে বীরপাড়া যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে হিংসার কোনও জায়গা নেই৷ এটা রাজ্য সরকারকেই সুনিশ্চিত করতে হবে৷’’ উত্তরবঙ্গে দলের শক্তি বৃদ্ধিতে বিজেপি নেতাদের ভূমিকায় এ দিন সন্তোষ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘‘এখানকার বিজেপি নেতারা সংগঠনকে কি করে আরও শক্তিশালী করা যায় তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ নেতাদের এই চেষ্টার ওপর ভিত্তি করেই আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি উত্তরবঙ্গে আরও ভালও ফল করবে।’ তাঁর কথায়, সংগঠন শক্তিশালী হলে তাঁর ফল সব নির্বাচনেই পড়ে৷ আগামী নির্বাচনগুলিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগুলিতেও অবশ্যই তার প্রতিফলন পড়বে৷

শনিবার আলিপুরদুয়ার বিজেপির জেলা নেতাদের নিয়ে ডুয়ার্সের বীরপাড়া ধর্মশালায় চিন্তন শিবিরে গিয়েও বৈঠক করেন তিনি। বিজেপির সুত্রে জানা যায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগাম পরিকল্পনা ও যোজনা নিয়ে নেতাদের অবহিত করেন। বৈঠকে বীরপাড়া-মাদারিহাট বিধান সভা কেন্দ্রে যে ভাবে বিজেপি জিতেছে সেই পথ ধরেই জেলা নেতাদের পদক্ষেপ করতে বলেন।

বৈঠক শেষে ডেঙ্গি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,‘‘ডেঙ্গি রূখতে রাজ্য সরকারকে সব রকম সহযোগিতা করছে কেন্দ্র।’’ মন্ত্রী ফিরে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে বিভিন্ন দাবিতে স্মারকলিপি তুলে দেন কেন্দ্রীয় গ্রামীণ মহিলা স্বাস্থ্য কর্মিরা।