লগ্নি সংস্থা সারদার আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার জন্য কত টাকা আছে, তা নিয়ে বুধবার তিনটি হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। তার একটি দিতে হবে মামলাকারীদের। অন্য দু’টি হলফনামা দিতে হবে দুই তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে।

সারদা-সহ বিভিন্ন লগ্নি সংস্থায় টাকা রেখে তা ফেরত না-পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কয়েকশো আমানতকারী। সম্পত্তি বিক্রি করে লগ্নিকারীদের টাকা ফেরত দিতে চেয়েছেন সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন এবং অন্যান্য লগ্নি সংস্থার কর্তারা। বিশেষ করে সারদার লগ্নিকারীদের ফেরত দিতে রাজ্য সরকার ৫০০ কোটি টাকার যে-তহবিল গড়েছিল, তার কতটা অবশিষ্ট আছে, সেই বিষয়েই মামলাকারীদের হলফনামা চেয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে সিবিআই এবং ইডি-কে তাদের নির্দেশ, সারদার কত টাকা তারা বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ওই সংস্থার কত সম্পত্তি কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, সবই হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। তিন পক্ষকেই হিসেব দিতে হবে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, সারদার টাকা ফেরাতে রাজ্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গড়েছিল। তহবিল থেকে লগ্নিকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রাক্তন বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে একটি কমিশনও গঠন করেছিল সরকার। কমিশন কিছু অর্থ আমানতকারীদের ফেরত দেয়। কিন্তু তহবিলের কত টাকা এখনও পড়ে রয়েছে, ডিভিশন বেঞ্চ সেটাই হলফনামা দিয়ে জানাতে বলেছে।

তহবিলে কত টাকা আছে, তা জানাতে আমানতকারীদের কাছে হলফনামা চাওয়া হল কেন?

আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, সুবীর দে নামে এক লগ্নিকারী আদালতে অভিযোগ করেছেন, রাজ্য আদৌ ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গড়েনি। আসলে কত টাকার তহবিল তৈরি হয়েছিল, তার নথি কয়েক জন আমানতকারীর কাছে আছে। তাই তাঁদের হলফনামা চেয়েছে আদালত।

আইনজীবী শুভাশিসবাবু জানান, অর্থ লগ্নি সংস্থা রোজ ভ্যালির লগ্নিকারীদের দায়ের করা একটি মামলারও শুনানি ছিল বুধবার। সেই মামলায় এ দিন হলফনামা দেয় ইডি। রোজ ভ্যালির কত টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তাদের কত সম্পত্তি বিক্রি করে কত টাকা পাওয়া গিয়েছে— হলফনামায় তার উল্লেখ করে ইডি জানিয়েছে, সম্পত্তি বিক্রির টাকা এবং বাজেয়াপ্ত করা যাবতীয় অর্থ তাদের তহবিলে জমা আছে।

রোজ ভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে প্রাক্তন বিচারপতি দিলীপ শেঠ‌ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়েছেন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন জানায়, ইডি-র হেফাজতে থাকা টাকা কী ভাবে লগ্নিকারীরা ফেরত পাবেন, আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেঠের কমিটিকে সেই নির্দেশ দেওয়া হবে।

এ দিনই বিচারপতি বসুর ডিভিশন বেঞ্চে লগ্নি সংস্থা আরএন পলিমার, প্রিমিয়ার ডেলমার্ক ও প্রিমিয়ার অ্যাগ্রোটেকের আইনজীবীরা জানান, তাঁরাও আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে চান। এমপিএসের লগ্নিকারীদের টাকা ফেরাতে হাইকোর্ট প্রাক্তন বিচারপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদারের নেতৃত্বে যে-কমিটি গড়েছে, ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন তাদের নির্দেশ দিয়েছে, ওই তিন সংস্থার লগ্নিকারীদের কী ভাবে টাকা ফেরানো যায়, তা খতিয়ে দেখা হোক।