এক ধাক্কায় বেতন বাড়ার কথা প্রায় দেড় গুণ। কিন্তু পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে যে, বাড়া তো দূরের কথা, উল্টে বেতন কমে যেতে পারে প্রায় ২০ হাজার টাকা! এমনই আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন সদ্য ডব্লিউবিসিএস থেকে আইএএস স্তরে উন্নীত (প্রোমোটি আইএএস) ১০ অফিসার।

ওই অফিসারদের বেতন-কাঠামো কী হবে, তা চূড়ান্ত করতে নবান্নের তাবড় অফিসারেরা নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন। সদ্য আইএএস স্তরে উন্নীত ১০ জনের বেতন যদি কমিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে তাঁদের কেউ আদালতের দ্বারস্থ হলে বেকায়দায় পড়তে পারে সরকার। আবার নতুনদের বেতন বাড়ালে প্রবীণদের মনে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। তাঁরাও আদালতে যেতে পারেন। এই অবস্থায় এখন ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ দশা নবান্নের।

সমস্যার সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত দু’তিন বছরের কিছু ঘোষণা নিয়ে। তাতে বলা হয়, যুগ্মসচিব ও বিশেষ সচিব পর্যায়ের ডব্লিউবিসিএস অফিসারেরা দু’টি করে মোট চারটি ইনক্রিমেন্ট বেশি পাবেন। সরকার এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও জারি করে। কার্যত সেই থেকেই সমস্যার সূত্রপাত, জানাচ্ছেন নবান্নের কর্তারা।

কী রকম?

নবান্ন-কর্তারা জানান, ৭ নভেম্বর যে-দশ জন অফিসার আইএএসে উন্নীত হয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তাঁরা আগের পদে থাকাকালীন চারটি বেশি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন। কিন্তু তাঁদের আগে, গত দু’বছরে যাঁরা ডব্লিউবিসিএস থেকে প্রোমোশন পেয়ে আইএএস হয়েছেন, তাঁরা ওই বিশেষ ইনক্রিমেন্ট পাননি। ফলে সদ্য প্রোমোটি দশ আইএএস অফিসার তাঁদের সিনিয়রদের থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি বেতন পাওয়ার জায়গায় চলে গিয়েছেন।

আর এখানেই বিষম ফাঁপরে পড়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার।

‘‘প্রথমে বিষয়টি প্রায় সকলেরই নজর এড়িয়ে গিয়েছিল। পরে প্রবীণ অফিসারদের নজরে আসায় তাঁরা রাজ্যের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে অভিযোগ করেন। তাতেই টনক নড়ে সরকারের,’’ বলেন নবান্নের এক কর্তা।

সরকার প্রথমে সিদ্ধান্ত নেয়, সদ্য আইএএস স্তরে উন্নীত অফিসারদের চারটি ইনক্রিমেন্ট কেটে নেওয়া হবে। এই খবরে বিস্তর ক্ষোভ ছড়ায় সরকারি মহলে। রাজ্যের এক শীর্ষ অফিসারের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাড়তি চারটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। তাই এটা তাঁদের ন্যায্য পাওনা। এখন ফেরত দিতে বললে কেউ আদালতে চলে যেতে পারেন। তাতে সরকারের মুখ পোড়ার আশঙ্কা প্রবল।’’

আবার আগে বিসিএস থেকে আইএএস হওয়া অফিসারদের বেতনও বাড়াতে পারছে না রাজ্য। কারণ, আইএএস হয়ে যাওয়ার পরে সকলেই কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ মন্ত্রকের অধীনে চলে যান। তখন আর তাঁদের বেতন বাড়াতে পারে না রাজ্য।

নবান্নের খবর, এই সমস্যার সুরাহা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থ দফতরকে। তারা যে-সিদ্ধান্ত নেবে, সরকার সেই অনুযায়ী এগোবে। তত দিন পর্যন্ত সদ্য আইএএস-রা আগের বেতন পাবেন।