এক ধর্ষিতা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ, এই অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলায় মঙ্গলবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে ধর্ষিতাকে অন্তর্বর্তিকালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। টাকা মেটাতে হবে আলিপুর জেলা লিগ্যাল এড সার্ভিসেস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে।

আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায়চৌধুরী জানান, তাঁর মক্কেল বারুইপুর থানার ইন্দ্রপালা গ্রামের এক বিধবা মহিলা। তাঁর দুই ছেলে, এক মেয়ে। ছেলেরা মুম্বইয়ে শ্রমিকের কাজ করেন। বড় ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মহিলা এপ্রিল মাসে মেয়েকে বাড়িতে রেখে মুম্বই যান। মেয়ে পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে। তাকে সে সময়ে একা পেয়ে বিশ্বদেব নস্কর নামে প্রতিবেশী এক যুবক ধর্ষণ করে। মাসখানেক পরে বাড়ি ফিরে আসেন ওই মহিলা। তখন মেয়ে তাঁকে কিছু জানায়নি। পরে তিনি বুঝতে পারেন, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। তাকে নিয়ে মহিলা বারুইপুর থানায় যান অভিযোগ দায়ের করতে। কিন্তু মহিলার অভিযোগ, পুলিশ বিশ্বদেবের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেনি। এর পরেই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। শেষমেশ আদালতের নির্দেশে সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশ অভিযুক্ত বিশ্বদেবকে গ্রেফতার করে।

ইন্দ্রজিৎবাবু জানান, ইতিমধ্যে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো গর্ভপাত করাতে পারেনি। কারণ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ রয়েছে, ভ্রূণে কোনও ত্রুটি না থাকলে বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও গোলমাল না থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের পরে কোনও অন্তঃসত্ত্বা গর্ভপাত করাতে পারবেন না। তাই, সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশ মাফিক মেয়েটির মা আলিপুর জেলা লিগ্যাল এড সার্ভিসেস কর্তৃপক্ষের কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তিকালীন ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেন। ওই কর্তৃপক্ষ আবেদন মঞ্জুর করেননি। তখন মেয়েটির মা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন জানান হাইকোর্টে। আইনজীবী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, ধর্ষিতা বা অ্যাসিড আক্রান্ত কোনও মহিলা কমপক্ষে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে তা দিতে হবে।