অনুগামীরা পোস্টার দিলেও আপাতত তিনি যে দার্জিলিঙে জনসমক্ষে আসতে চান না, তা জানালেন খোদ বিমল গুরুঙ্গ। শুক্রবার সকালে এক অডিও বার্তায় ‘ফেরার’ মোর্চা সভাপতি বলেন, ‘‘আমি পাহাড়ের মানুষের কাছাকাছিই আছি। একটু ধৈর্য ধরুন।’’ সঙ্গে জানিয়েছেন, ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হলেই তিনি সেখানে যোগ দেবেন।

কিন্তু কবে হবে সেই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, এখনও তাঁরা ঠিক করতে পারেননি, এই বৈঠকে কাকে ডাকবেন, বিমল গুরুঙ্গ নাকি বিনয় তামাঙ্গ। এই কাঁটাতেই ঝুলে বৈঠকের ভবিষ্যৎ। মন্ত্রক সূত্রে বলা হচ্ছে, বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে মাস দেড়েক আগে একটি কমিটি গঠিত হয়। সে কথা রাজ্যকে জানিয়েছে দিল্লি। কিন্তু মন্ত্রক বলছে, ত্রিপাক্ষিকে গুরুঙ্গকে ডাকা হলে রাজ্য তাতে যোগ দেবে কি না সন্দেহ। আর তারা বয়কট করলে ফের মুখ পুড়বে কেন্দ্রের। আবার গুরুঙ্গ বিজেপির শরিক। তাই তাঁকে বাদ দেওয়াটাও সমস্যার।

গুরুঙ্গপন্থী মোর্চা নেতাদের কয়েক জন এ দিন জানান, তাঁরা শুনেছেন, ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা যায় কি না, সেই ব্যাপারে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে দিল্লি। রাজ্যের এক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাও জানান, ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়ে কেউ একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা করতে হবে।

বিনয় তামাঙ্গ জানান, তাঁরাও ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকার জন্য রাজ্যকে উদ্যোগী হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিনয় এ দিন গুরুঙ্গকে ফের প্রকাশ্যে আসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এ দিনের অডিও-বার্তায় পাহাড়ে যাবতীয় অশান্তির জন্য আবার বিনয়ের দিকে তির ছুড়েছেন গুরুঙ্গ। আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘‘পাহাড়ে এখন বিনয়পন্থী হলে মামলা থাকলে পুলিশ গ্রেফতার করবে না। বিমলপন্থী হলেই গ্রেফতার। কী বলব!’’ বিনয়ের জবাব, ‘‘উনি (গুরুঙ্গ) সামনে এসে সব প্রশ্নের জবাব দিন। একমাত্র তা হলেই পাহাড়বাসী খুশি হবেন।’’

কিন্তু মুখরক্ষার যে সূত্রটি ধরে প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন গুরুঙ্গ, সেই ত্রিপাক্ষিক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে মোর্চার অন্দরেও। ফলে গুরুঙ্গের জনসমক্ষে আসাও ক্রমে অনিশ্চিত হচ্ছে, মানছেন তাঁর অনুগামীরাই।